Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটের মুখে নুসরতের মাথায় ইডির খাঁড়া! বিদেশে বসেই দিল্লির আর্জি খারিজ, কলকাতায় হাজিরা কি বাধ্যতামূলক?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। আগামী ২৩শে এপ্রিল প্রথম দফা এবং ২৯শে এপ্রিল দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ নির্বাচন। ঠিক এই তপ্ত রাজনৈতিক আবহের মাঝেই ফের অস্বস্তি বাড়ল অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহানের। ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় তাঁকে ফের তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তবে এবার আর কোনো অজুহাত নয়, আগামী ২২শে এপ্রিলই তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, নুসরত জাহান বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন। ইডি-র এই তলব পাওয়ার পর তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি অনুরোধ করেছিলেন, তাঁর হাজিরা যেন কলকাতার পরিবর্তে দিল্লির সদর দফতরে নেওয়া হয়। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা সেই আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। ইডি সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং নথিপত্র যাচাইয়ের প্রয়োজনে তাঁকে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সেই হাজিরা দিতে হবে।

নুসরত জাহানের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। একটি সংস্থার ডিরেক্টর থাকাকালীন রাজারহাট এলাকায় সস্তায় ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রবীণ নাগরিকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ কারীরা দাবি করেছেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁরা ফ্ল্যাট পাননি এবং তাঁদের টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। এই আর্থিক অনিয়মের হদিস পেতেই ‘প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট’ (PMLA) অনুযায়ী তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। ইতিপূর্বে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসেও এই একই মামলায় তাঁকে প্রায় ৬ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে অর্থাৎ ২২শে এপ্রিল এই তলব রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। একদিকে যখন প্রথম দফার ভোটের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রাক্তন এই তৃণমূল সাংসদের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ শাসক দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা বিরোধীদের।

এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত ২২শে এপ্রিল নুসরত জাহান কলকাতায় ইডি-র দফতরে সশরীরে হাজিরা দেন কি না, নাকি আইনি ঢাল ব্যবহার করে আরও কিছুটা সময় চেয়ে নেন। তবে ভোটের ঠিক মুখে এই তলব যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পারদ আরও চড়িয়ে দিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

Exit mobile version