প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোল যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট থেকে ভেসে এল এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ খবর। ভোটার তালিকা নিয়ে দায়ের হওয়া এক নতুন মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকার ‘ফ্রিজিং’ বা চূড়ান্তকরণের ঠিক আগের মুহূর্তে এই মামলার জল কতদূর গড়ায়, তা নিয়ে এখন ঘুম উড়েছে অনেক তাবড় রাজনৈতিক নেতার।
সুপ্রিম কোর্টে এক চাঞ্চল্যকর আবেদন জানানো হয়েছে। মামলাকারীদের দাবি— যাঁদের কাছে বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট আছে, তাঁদের নাম কেন ভোটার তালিকায় থাকবে না? তাঁদের দাবি অনুযায়ী, পাসপোর্ট থাকা মানেই সেই ব্যক্তি এদেশের বৈধ নাগরিক এবং তাঁর ভোটাধিকার থাকা বাধ্যতামূলক। তাই যাঁদের পাসপোর্ট আছে অথচ ভোটার তালিকায় নাম নেই, তাঁদের নাম অবিলম্বে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিক আদালত।
মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে উঠতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, গতকালই ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। আবেদনকারী পক্ষ সওয়াল করেন যে, যদি আজই নাম তোলার নির্দেশ না দেওয়া হয়, তবে এই বিপুল সংখ্যক নাগরিক তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিচারপতি বাগচী সরাসরি জানিয়েছেন, “জুডিশিয়াল অফিসাররা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছেন।” অর্থাৎ আদালত যে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে, তা বিচারপতির কথাতেই পরিষ্কার। তিনি আরও একটি বড় মন্তব্য করেছেন যা রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছে। তিনি বলেছেন, “ভবিষ্যতে যাতে ভোটদানের ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা না হয়, সেটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া বা ভুয়া ভোটারের সমস্যা পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের। যদি আদালত পাসপোর্টকে ভিত্তি করে সরাসরি নাম তোলার নির্দেশ দেয়, তবে লক্ষ লক্ষ প্রকৃত নাগরিকের ভোটদানের পথ প্রশস্ত হবে। আর এই বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটার যদি শেষ মুহূর্তে তালিকায় যোগ হন, তবে বিধানসভা নির্বাচনের প্রতিটি কেন্দ্রের পাটিগণিত মুহূর্তের মধ্যে ওলটপালট হয়ে যাবে।
তবে কি বিধানসভা ভোটের আগে এই ভোটার তালিকাই হয়ে উঠবে আসল ‘গেম চেঞ্জার’? বিচারপতি বাগচী জানিয়েছেন, আগামী ১৩ তারিখ এই মামলার শুনানির দিন নির্ধারিত আছে এবং সেদিনই মামলার গুরুত্ব খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন তিনি। আদালত যদি ওইদিন বড় কোনো রায় দেয়, তবে তা বাংলার ভোট ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে। এখন গোটা রাজ্যের নজর দিল্লির সুপ্রিম কোর্টের দিকে। ১৩ তারিখ কি বড় কোনো ‘বোমা’ ফাটতে চলেছে? ভোটার তালিকায় কি ঘটবে এক অলৌকিক পরিবর্তন? উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।
