Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটের মুখে ‘তৃণমূলের ত্র্যহস্পর্শ’? সুজিত-দেবাশীষের পর এবার ইডির নিশানায় খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে জমি সংক্রান্ত বিতর্ক—একের পর এক মামলায় শাসক দলের হেভিওয়েট নেতাদের ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার ঘটনায় কার্যত ‘ত্র্যহস্পর্শ’ লেগেছে ঘাসফুল শিবিরে। এবার তদন্তের অভিমুখ সরাসরি রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের দিকে। আগামী বুধবার তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছে।

আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই ইডির সদর দফতরে শুরু হতে চলেছে হেভিওয়েটদের আনাগোনা। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগামী সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছে রাজ্যের প্রভাবশালী দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে। ইতিপূর্বে তাঁর বাড়ি, অফিস এমনকি ছেলের রেস্তোরাঁতেও দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। সুজিত বসুর স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাকেও এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সুজিত বসুর হাজিরার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই, অর্থাৎ বুধবার তলব করা হয়েছে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, মধ্যমগ্রাম পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো বড়সড় অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা জানতেই এই তলব। উল্লেখ্য, গত বছরই রথীন ঘোষের মধ্যমগ্রামের বাড়িতে দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। তখন বেশ কিছু ডিজিটাল নথি ও ডায়েরি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের ঠিক মুখে দুই ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে পর পর তলব করা শাসক দলের জন্য এক চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিয়োগ দুর্নীতির পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতার প্রভাবশালী নেতা তথা রাসবিহারীর প্রার্থী দেবাশীষ কুমারের নাম জড়িয়েছে একটি জমি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের মামলায়। ইডি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই দু’বার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, একটি সংস্থার হয়ে বেআইনি জমি লেনদেনে প্রভাবশালী মদত দেওয়ার। দেবাশীষ কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি আধিকারিকদের হাতে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভোটের ব্যস্ততার মধ্যে প্রচার ছেড়ে কেন বারবার ইডি দফতরে ছুটতে হচ্ছে, তা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিরোধী শিবির।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই দুর্নীতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। সাধারণ মানুষের করের টাকায় যারা নিজেদের আখের গুছিয়েছে, তাদের শেষ পর্যন্ত আইন থেকে পালানোর কোনো পথ নেই। নির্বাচনের মুখে যখন উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে জনতার দরবারে যাওয়ার কথা, তখন দুর্নীতির কালিমায় ঢাকা পড়তে হচ্ছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। বিশ্লেষকদের মতে, রথীন ঘোষ ও সুজিত বসুর মতো জনভিত্তি থাকা নেতাদের এই আইনি টানাপোড়েন নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে পারে, যার প্রতিফলন সরাসরি ইভিএম-এ ঘটা অসম্ভব নয়। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে এই দুর্নীতির ইস্যু বিরোধীদের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দিল।

তবে বরাবরের মতই এই সক্রিয়তাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবেই দেখছে শাসক দল। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচনে রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করতে না পেরে বিজেপি কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে ময়দানে নামিয়ে দিয়েছে। দলের মতে, ভোটের মুখে নেতাদের কাজকর্মে বাধা দিতেই এই ‘স্ক্রিপ্ট’ তৈরি করা হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি বারবারই জানিয়েছে, তারা আদালতের নির্দেশ এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এখন দেখার, আগামী সপ্তাহের এই হাই-ভোল্টেজ জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নতুন কোনো তথ্যের হদিস মেলে কি না, নাকি এটি শাসক দলের জন্য আরও বড় কোনো বিপদের সংকেত।

Exit mobile version