প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা ভোটের ঠিক আগে নজিরবিহীন অশান্তিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল। বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ভাটপাড়া ও জগদ্দল এলাকা। বোমাবাজি থেকে শুরু করে গুলি চলা— বাদ গেল না কিছুই। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী পবন সিংয়ের বাড়ি এবং জগদ্দল থানা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি সভার প্রস্তুতি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছিল। অভিযোগ, রাজনৈতিক পতাকা ও পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে বিবাদের সূত্রপাত হয়। যা মুহূর্তের মধ্যে বড়সড় সংঘর্ষের রূপ নেয়।
ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী পবন সিং অভিযোগ করেছেন, জগদ্দলের মেঘনা মোড়ে তাঁর বাড়ির সামনে আচমকাই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা গুলি ও বোমা ছুড়তে শুরু করে। গোলমাল শুনে বাইরে বেরোলে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সিআইএসএফ (CISF) জওয়ান পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তড়িঘড়ি তাঁকে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন বলে খবর।
ঘটনার রেশ পৌঁছায় জগদ্দল থানায়। জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমারের অভিযোগ, তাঁরা থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে সেখানেও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা তাঁদের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় ব্যাপক ইটবৃষ্টি ও হাতাহাতি। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে হয়।
বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, পরাজয় নিশ্চিত জেনে তৃণমূল সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, অর্জুন সিংয়ের নেতৃত্বেই এলাকায় গন্ডগোল পাকানো হয়েছে এবং তাঁদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অশান্তি ছড়ানোর দায়ে ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। নির্বাচনের আগে এই ধরণের হিংসাত্মক ঘটনা ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে বলে জানা যাচ্ছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে জগদ্দলের এই ‘তপ্ত’ পরিস্থিতি প্রশাসন ও কমিশনের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
