প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচনের শেষ লগ্নে এসে তপ্ত হয়ে উঠল সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র। সোমবার প্রচারের শেষ মুহূর্তে আক্রান্ত হলেন নির্দল প্রার্থী রাজন্যা হালদার। অভিযোগের তির সরাসরি স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামীর দিকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভাঙা আঙুল নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়েছে রাজন্যাকে। এই ঘটনার পর এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সূত্রের খবর, সোমবার বিকেলে সোনারপুরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে শেষ মুহূর্তের প্রচারে বেরিয়েছিলেন নির্দল প্রার্থী রাজন্যা হালদার। তাঁর অভিযোগ, প্রচার চলাকালীন আচমকাই তৃণমূল আশ্রিত বেশ কিছু দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকায়। বচসা চলাকালীন ধস্তাধস্তিতে রাজন্যার একটি আঙুল ভেঙে যায়। রাজন্যার দাবি, “শাসক দলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে, তাই তারা ভয় পেয়ে পেশিশক্তির প্রয়োগ করছে।”
তবে রাজন্যার এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার অনুগামীরা। তাঁদের দাবি, ওই এলাকায় রাজন্যার প্রচার করার মত পরিস্থিতি ছিল না এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে তিনি নাটক করছেন। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের বক্তব্য, প্রচারের আলোয় আসতেই ভোটের মুখে এই ধরনের মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে।
সোনারপুর দক্ষিণ এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সাক্ষী। একদিকে তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক লাভলী মৈত্র, অন্যদিকে বিজেপির হাইপ্রোফাইল প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। এই দুই হেভিওয়েটের মাঝে নির্দল প্রার্থী হিসেবে রাজন্যা হালদারের উপস্থিতি সমীকরণকে অনেকটাই জটিল করে তুলেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই হামলার ঘটনা যদি ভোটারদের মধ্যে সহানুভূতি তৈরি করে, তবে নির্দল প্রার্থীর ঝুলিতে কিছু বাড়তি ভোট যেতে পারে, যা বড় দলগুলির চিন্তার কারণ হতে পারে। ভোটের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রার্থীর ওপর এই ধরনের হামলার অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় থানা এবং নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজন্যা হালদার। যদিও পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখনও পর্যন্ত বড় কোনো গ্রেফতারির খবর পাওয়া যায়নি। এখন দেখার, শেষ মুহূর্তের এই রক্তপাত সোনারপুর দক্ষিণের নির্বাচনী ফলাফলকে কতটা প্রভাবিত করে।
