Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটের আগে ৮০০ তৃণমূল কর্মীর গ্রেফতারি কি আসন্ন? হাইকোর্টের রায় নিয়ে টানটান উত্তেজনা, স্থগিত হল সিদ্ধান্ত!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- আগামীকাল, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে ৮০০ জন তৃণমূল কর্মীর সম্ভাব্য গ্রেফতারি নিয়ে। এই গ্রেফতারির আশঙ্কায় তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানি আজ শেষ হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত এই মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছে, যা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।

প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন রাজ্যের পুলিশের মাধ্যমে ৮০০ জন সক্রিয় তৃণমূল কর্মীর একটি গোপন তালিকা তৈরি করেছে। তৃণমূলের দাবি, এই তালিকায় থাকা নেতা-কর্মীদের ভোটের ঠিক আগে ‘প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন’ বা প্রতিরোধমূলক গ্রেফতারি করার ছক কষা হয়েছে যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া যায়। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, এই ৮০০ জনের মধ্যে তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক থেকে শুরু করে প্রথম সারির নেতৃত্ব রয়েছেন।

শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে পুলিশ সাধারণত ‘অশান্তি সৃষ্টিকারী’ বা ‘ট্রাবল মেকার’দের (Troublemakers) একটি তালিকা তৈরি করে। কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জোরালো সওয়াল করে জানান, যাঁদের নাম এই তালিকায় আছে, তাঁদের বিরুদ্ধে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো পুরনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। শুধুমাত্র তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই তাঁদের নিশানা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আগামীকাল ১৫২ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্ট যদি আজই কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দেয় বা গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ না জারি করে, তবে পুলিশি ধরপাকড়ের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাই কলকাতা হাইকোর্টের বেঞ্চ সমস্ত পক্ষের যুক্তি নোট করেছে এবং রায়দান আপাতত স্থগিত রেখেছে।

এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে আদালতের রায় এই ৮০০ কর্মীর জন্য স্বস্তি বয়ে আনে, নাকি পুলিশি অভিযানের পথ প্রশস্ত হয়। এই একটি মামলার সিদ্ধান্তের ওপর আগামীকালকের অনেক বুথের সমীকরণ নির্ভর করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Exit mobile version