প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
যারা চায়, অবৈধভাবে ভোট করতে, যারা চায়, দুষ্কৃতীদের দিয়েবুথ দখল করে ভোট করতে, তারা হয়ত, কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখে ভয় পাবে। কিন্তু এই রাজ্যের গণতন্ত্র প্রিয় মানুষ চায়, কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকুক মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে, সাহস দেওয়ার জন্য। বারবার এই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। কিন্তু তাদের নির্দেশ দেওয়ার কাজে বড় ভূমিকা পালন করেছে দলদাস পুলিশ। স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি তারা ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেছে বিরোধীরা। তবে এবার সাধারণ মানুষ যাতে ভোট দিতে পারে এবং গণতন্ত্র যাতে প্রহসনে পরিণত না হয়, তার জন্য প্রথম দিন থেকেই কড়া নজর রেখেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসেই ভোট ঘোষণা হয়ে যাবে। তবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করানোই যখন নির্বাচন কমিশনের একমাত্র লক্ষ্য, তখন ভোট ঘোষণা আগেই রাজ্যে চলে এসেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আর আজ কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় সেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রুটমার্চ করতে দেখা গেল।
বেশ কিছুদিন আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, এই রাজ্যে ভোট ঘোষণার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে আসবে। সেই মত জেলায় জেলায় পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গিয়ে তারা কিন্তু বসে নেই। ইতিমধ্যেই তারা রুটমার্চ করতে শুরু করে দিয়েছে। অর্থাৎ এতদিন সকলের মধ্যেই একটা সংশয় ছিল যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেও কি হবে? অতীতেও তো ভোটের সময় দেখা গিয়েছে যে, প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। কিন্তু তারা তো দিনের শেষে ওই দলদাস প্রশাসন বা পুলিশ যেটা বলবে, সেটাই করবে। তাই তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে তো একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। কিন্তু এবার অনেক আগেই এই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এসেছে এই একটা কারণেই। কারণ, তারা কারওর কথা শুনে কাজ করতে রাজি নয়। তাদের নিরপেক্ষভাবেই কাজ করাতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। আর তাই আজ সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে রুটমার্চ করলো কেন্দ্রীয় বাহিনী।
সূত্রের খবর, আজ সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রুটমার্চ করতে দেখা যায়। যেখানে তালতলা, রাসবিহারী এবং পঞ্চসারয়ে রুটমার্চ করেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। পাশাপাশি মহিলা কেন্দ্রীয় বাহিনীর যে টিম রয়েছে, তাদেরও রাস্তায় নামতে দেখা যায় বেহালায়। স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোট ঘোষণার আগে রাজ্যে যে এমনি এমনি আসেনি, মানুষের মনে সাহস দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা যে এবার একটা বড় ভূমিকা পালন করছে, তা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমনকি এবার নির্বাচন যাতে প্রহসনে পরিণত না হয়, তার জন্য যা করার দরকার, সেটাই যে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে করাবে, সেই বিষয়টিও যত দিন যাচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে। যার ফলে কিছুটা হলেও আশাবাদী হচ্ছেন রাজ্যের গণতন্ত্র প্রিয় সাধারণ মানুষ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
