Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

৪ মে-র মহাযুদ্ধে ‘ভোট লুঠ’ রুখতে বিজেপির বিশেষ ‘অপারেশন কাউন্টিং’! ২১-এর ক্ষত থেকে শিক্ষা নিয়ে নবান্ন দখলে মরিয়া গেরুয়া শিবির!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য নির্ধারণ হতে বাকি আর মাত্র দুটি দিন। ৪ মে ইভিএম খোলার আগেই আজ ১লা মে রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম চাঞ্চল্যকর তৎপরতা শুরু করলো বিজেপি। আজ শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গের হেভিওয়েট প্রার্থী এবং তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টদের নিয়ে বিশেষ ‘কাউন্টিং ওয়ার্কশপ’ বা প্রশিক্ষণ শিবিরে বসলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদব। সঙ্গে ছিলেন সুনীল বনসল এবং বিহারের মন্ত্রী মঙ্গল পাণ্ডে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি ২০২১-এর ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বিজেপির এক বড়সড় পালটা চাল।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব বারবার অভিযোগ করে এসেছে যে, ময়দানে লড়াই করলেও ‘গণনার টেবিলে’ তারা হেরে গিয়েছিল। দলের দাবি ছিল, অন্তত ৩০-৩৫টি আসনে কাউন্টিং এজেন্টদের ভয় দেখিয়ে বের করে দেওয়া বা গণনায় কারচুপির ফলে তাদের হাত থেকে ক্ষমতা ফসকে গিয়েছিল। যদিও নির্বাচন কমিশন সেই দাবি মানেনি, তবুও সেই সময়কার সেই আক্ষেপ থেকেই এবার কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ দিল্লির নেতৃত্ব।

আজকের এই বিশেষ বৈঠকে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— ‘শেষ ভোট গণনা পর্যন্ত পিছু হঠা চলবে না’। সূত্রের খবর, এজেন্টদের যে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে তাতে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। স্ট্রং রুম থেকে টেবিল পর্যন্ত মেশিনের গতিবিধিতে কড়া নজর। প্রতিটি রাউন্ড শেষে লিখিত হিসেব বুঝে না নিয়ে টেবিল না ছাড়া। পোস্টাল ব্যালট গণনা থেকে শুরু করে অন্তিম রাউন্ড পর্যন্ত কাউন্টিং হলে অবিচল থাকা।

শীর্ষ নেতৃত্বের এই কড়া নজরদারি বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে অক্সিজেন জুগিয়েছে। সাধারণ কর্মীদের মনে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যে, শীর্ষ নেতৃত্ব এবার গণনার প্রতিটি সেকেন্ডে নজর রাখছে, ফলে অতীতের মতো ‘লুঠ’ হওয়ার সম্ভাবনা এবার নেই বললেই চলে। নেতৃত্বের এই সক্রিয়তায় সাধারণ মানুষও আশ্বস্ত বোধ করছেন যে, একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোট গণনা দেখতে চলেছে বাংলা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। এখানকার আসনের ফলাফলই বলে দেবে নবান্নের দখল কার হাতে যাবে। বিজেপি এবার তাদের রণকৌশল পুরোপুরি বদলে ফেলেছে। শুধুমাত্র ভোট পাওয়াই নয়, সেই ভোটকে গণনার শেষ পর্যন্ত সুরক্ষিত রাখাই এখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ৪ মে ইভিএম খোলার পর শিলিগুড়ির এই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ বিজেপিকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যেতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version