Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোট মিটতেই অ্যাকশনে কমিশন! সাতসকালে আকাশপথে স্ট্রং রুমে হানা খোদ সিইও-র!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য জুড়ে উৎসবের মেজাজে নির্বাচন শেষ। এখন কেবল ফলাফলের অপেক্ষা। কিন্তু তার আগেই নজিরবিহীন তৎপরতা দেখা গেল নির্বাচন কমিশনে। শুক্রবার সাতসকালে পুরুলিয়ার আকাশে চপারের গর্জন, আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সরাসরি স্ট্রং রুমে হানা! রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়ালের এই আচমকা জেলা সফর ঘিরে আজ তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল রঘুনাথপুরে।

রাজ্যের সব কটি দফার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে টানটান উত্তেজনা, ঠিক তখনই আসরে নামলেন খোদ সিইও। শুক্রবার সকাল ৯ টা নাগাদ হেলিকপ্টারে চড়ে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে কোনো সময় নষ্ট না করে তিনি সোজাসুজি চলে যান রঘুনাথপুর কলেজ স্ট্রং রুমে। যেখানে কড়া প্রহরায় মুড়ে রাখা হয়েছে জেলার বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম ও ভিভিপ্যাট মেশিনগুলো।

ভোট শেষ হওয়ার পর গণনার আগের এই সময়টা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণত নানা মহলে নানা প্রশ্ন ও আশঙ্কা তৈরি হয়। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা নিরাপত্তার সামান্যতম ফাঁক যাতে না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’। রঘুনাথপুর, কাশীপুর এবং পাড়া— এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটযন্ত্র যেখানে রাখা হয়েছে, সেই স্ট্রং রুমের প্রতিটি কোণ এদিন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে খতিয়ে দেখেন সিইও।

এদিন পরিদর্শনের সময় সিইও-র সঙ্গে ছিলেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও পুলিশ সুপার। কমিশনের কড়া প্রোটোকল অনুযায়ী স্ট্রং রুমের বর্তমান চিত্রটি হলো: সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে স্ট্রং রুমের বাইরে ও করিডোরে অবিরাম নজরদারি চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CAPF) জওয়ানদের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে বন্দি রঘুনাথপুর কলেজ। এদিন সিইও নিজে উপস্থিত থেকে প্রতিদিনের মুভমেন্ট রেজিস্টার এবং স্ট্রং রুমের দরজার সিল ও ডাবল-লক ব্যবস্থা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন।

পরিদর্শন শেষে মনোজ কুমার আগরওয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানান, “পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন গণনার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতেই এই সফর। সুরক্ষাবিধি মেনে সব কাজ হচ্ছে কি না, তা সরাসরি তদারকি করা হলো। সবটাই সন্তোষজনক।” গণনার দিন পর্যন্ত ইভিএম-এর সুরক্ষায় কমিশন যে কোনো প্রকার ঢিলেমি বরদাস্ত করবে না, সিইও-র এই ঝটিকা সফর যেন সেই বার্তাই পরিষ্কার করে দিল। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নজরদারিতে যেন সামান্যতম খামতিও না থাকে।

Exit mobile version