Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোট মিটতেই কি সমীকরণ বদল? ইডির ‘অনাপত্তিতে’ জামিন পেলেন আই-প্যাক কর্তা ভিনেশ চান্ডেল!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে অত্যন্ত শোরগোল ফেলে দেওয়া আই-প্যাক (I-PAC) ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি মামলা এবার নতুন মোড় নিল। ভোটের উত্তাপের মধ্যে গ্রেফতার হওয়ার পর, নির্বাচন মিটতেই দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট থেকে জামিন পেলেন তিনি। তবে সবচেয়ে বড় চমক হলো, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবার চান্ডেলের জামিনের আবেদনে কোনো প্রকার বিরোধিতা করেনি।

গত ১৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে মূলত আর্থিক তছরূপের (Money Laundering) মামলা ছিল। ইডির অভিযোগ ছিল যে, বিভিন্ন উৎস থেকে আসা বিপুল পরিমাণ অর্থ ‘হাওয়ালা’ মারফত লেনদেন করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় আই-প্যাকের যোগসূত্র রয়েছে। বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাখিল করা নথিতে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান ও অভিযোগ উঠে এসেছিল।

ইডির দাবি অনুযায়ী, কয়েক কোটি টাকার ‘প্রসেডস অফ ক্রাইম’ বা অপরাধলব্ধ অর্থ এই মামলার সঙ্গে যুক্ত। আইপ্যাকের আর্থিক নথিতে এমন কিছু ‘আনসিকিউরড লোন’ বা জামানতহীন ঋণের হদিশ পাওয়ার দাবি করেছিল ইডি, যার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র দেশীয় স্তরে নয়, নির্দিষ্ট কিছু চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা বাইরে পাঠানোর গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছিল চান্ডেলের বিরুদ্ধে।

গ্রেফতারির সময় ইডি দাবি করেছিল যে, চান্ডেল এবং তাঁর সংস্থা তদন্তে বাধা দিচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থা আগে চান্ডেলের কড়া হেফাজত চেয়েছিল এবং জামিনের বিরোধিতা করেছিল, সেখানে বিধানসভা ভোট মেটার পরেই তাদের এই ‘নরম মনোভাব’ বা অনাপত্তি বেশ রহস্যজনক।

রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ভোটের আগে যে তৎপরতা দেখা গিয়েছিল, ফলাফল প্রকাশের পর কি সেই তদন্তের গুরুত্ব কমে গেল? আদালত ভিনেশ চান্ডেলকে জামিন দিলেও কিছু শর্ত আরোপ করেছে এবং তাঁকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, এই মামলার জল আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়।

Exit mobile version