Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোট না দিলে সপরিবারে এলাকা ছাড়ার নিদান! বাংলার বুকে এ কোন তালিবানি ফতোয়া? শিউরে উঠছে আমজনতা!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ভোটের দামামা বাজতেই কি ফের স্বমূর্তি ধরছে শাসক শিবির? বহরমপুর এবং জীবনতলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে যা ঘটল, তাতে রীতিমত স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল। প্রকাশ্য জনসভায় দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষকে সপরিবারে এলাকাছাড়া করার ‘ফতোয়া’ দিলেন এক দাপুটে যুব নেতা। এই ঘটনার ভিডিও (যার সত্যতা আমাদের পোর্টাল যাচাই করেনি) সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শিউরে উঠছেন সাধারণ ভোটাররা।

কী ঘটেছে মগরাহাটে? অভিযোগ উঠেছে মগরাহাট পশ্চিম ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি ইমরান হাসান মোল্লার বিরুদ্ধে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। তাঁর সাফ কথা, যারা সরকারের সুবিধা ভোগ করে তৃণমূলের সঙ্গে ‘বেইমানি’ করবেন, ভোট মিটলে তাঁদের নাকি “বউ-বাচ্চা নিয়ে এলাকা ছাড়তে হবে”। এমনকি মা-বোনেদের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধ করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকিও তাঁর গলায় শোনা গিয়েছে বলে অভিযোগ।

মগরাহাটের এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে মানতে নারাজ রাজনৈতিক মহল। কারণ, বিগত কয়েক দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একই ছবি দেখা গিয়েছে। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল বুথ সভাপতি রাজু মণ্ডলের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর সেই চরম স্পর্ধার জেরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলায় দেউলি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাফিজুল মোল্লা আরও এক কদম এগিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি প্রকাশ্যেই বলেছিলেন যে, ভোট মিটে যাওয়ার পর বিরোধীদের ওপর “স্টিম রোলার” চালানো হবে। এই উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে তাঁকেও শ্রীঘরে যেতে হয়েছে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পায়ের তলা থেকে মাটি সরছে বুঝেই এখন নিচুতলার নেতাদের দিয়ে ভয় দেখানোর রাজনীতি শুরু করেছে তৃণমূল। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই কি এখন সাধারণ মানুষের রুটিরুজিতে টান দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে? ঘরছাড়া করার এই নিদানকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ‘গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে দেখছেন।

এই ভিডিও সামনে আসতেই সরব হয়েছে বিজেপি। বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি এই নেতার গ্রেফতারি এবং তৃণমূলের রাজনৈতিক স্বীকৃতি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার, বহরমপুর ও জীবনতলার মতো মগরাহাটের এই ‘বেলাগাম’ নেতার ভাগ্যেও শ্রীঘর জোটে কি না।

Exit mobile version