প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় ভোটের লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামীকাল, বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজ্যে দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ নির্বাচন। এই দফাতেই ভাগ্যনির্ধারণ হবে রাজ্যের সবথেকে চর্চিত কেন্দ্র ভবানীপুরের। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটিতে তাঁকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। চারিদিকে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন শুভেন্দু। ভোটের আগের রাতে রাজনৈতিক লড়াই ভুলে তাঁকে দেখা গেল রাস্তার ধারের চটপটে খাবারে মন দিতে।
সাধারণত ভোটের আগের রাতে হেভিওয়েট নেতারা রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা গেল একদম সাধারণ মানুষের মতো রাস্তার ধারের একটি আলুকাবলির দোকানের সামনে। নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও, শুভেন্দু কিন্তু অত্যন্ত সাবলীলভাবে শালপাতায় আলুকাবলি আর ছোলামাখার স্বাদ নিলেন। বিরোধী দলনেতার এই ‘খাদ্যরসিক’ অবতার এখন নেটপাড়ায় রীতিমতো ভাইরাল।
আগামীকাল দ্বিতীয় দফায় মোট ১৪২ টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তবে গোটা দেশের নজর আটকে আছে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসনে। ২০২১-এ নন্দীগ্রামে মমতাকে হারানোর পর এবার তাঁর নিজের কেন্দ্রে শুভেন্দুর এই লড়াইকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ হিসেবে দেখছেন। প্রচারের শেষ লগ্নে দুই পক্ষই একে অপরকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও রাজি হয়নি। আর সেই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের কয়েক ঘণ্টা আগে শুভেন্দুর এই আলুকাবলি খাওয়ার মুহূর্তটি এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম দফার নির্বাচনে বাংলায় ব্যাপক ভোট পড়েছিল। দ্বিতীয় দফায় ভবানীপুরের পাশাপাশি টালিগঞ্জ, দমদম এবং কলকাতা পোর্ট-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতেও ভোট রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘মাটির মানুষ’ ইমেজ তৈরির চেষ্টা আগামীকাল ইভিএমে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, “ভোটের ক্লান্তি কাটাতে এই স্বাদবদল দরকার ছিল।” অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, “শেষ মুহূর্তে মানুষের নজর টানতেই এই স্টান্ট।” সব মিলিয়ে, কালকের মহাযুদ্ধের আগে শুভেন্দুর এই ‘আলুকাবলি বিরতি’ এখন বাংলার রাজনীতির সবথেকে বড় গসিপ।
