Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটের ইতিহাসে বেনজির ঘটনা! ‘আমার ভোট ফেরত দিন’, মমতাকে চিঠি লিখে তোলপাড় ফেললেন ভোটার!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের রাজনীতিতে এবার ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত চমকপ্রদ ঘটনা। দলবদলু নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের এবং স্ত্রীর দেওয়া মূল্যবান ভোট ফেরত চেয়ে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলাশাসক ও স্থানীয় বিধায়ককে চিঠি পাঠালেন এক সাধারণ নাগরিক! সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই চিঠির বয়ান ভাইরাল হতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

এই অভিনব ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু হলো পূর্ব বর্ধমান জেলার ২৬৬ বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র। চিঠিটি পাঠিয়েছেন ওই এলাকারই বাসিন্দা তথা জন্মলগ্ন থেকে তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী ও ভোটার সন্দীপ ভট্টাচার্য।চিঠিতে ও নিজের ফেসবুক পোস্টে সন্দীপ ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী রূপালি ঘরুই ভট্টাচার্য তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখেই বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী নিশীথ কুমার মালিককে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই তৃণমূলের অন্দরে চলা তীব্র ভাগাভাগি ও ক্ষমতা দখলের লড়াই শুরু হয়। এর জেরেই দলের একাংশ বিধায়ক দলবদল করেন।বর্ধমান উত্তরের বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিকও তৃণমূলের মমতাপন্থী শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী শিবিরে’ নাম লেখান। এই দলবদল এবং রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী রূপ দেখেই নিজেকে চরম ‘প্রতারিত’ বলে মনে করছেন সন্দীপবাবু।

ক্ষোভে ফেটে পড়ে সন্দীপ ভট্টাচার্য তাঁর চিঠিতে লিখেছেন:”মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী মহাশয়ার চোখে আপাতত যিনি গদ্দার, আমাদের মতো সাধারণ একজন দলের জন্মলগ্নের কর্মীদের কাছে তিনি বেইমান। ২৬৬ বর্ধমান উত্তর বিধানসভার বর্তমান MLA নিশীথ কুমার মালিক, দয়া করে আমাদের দেওয়া প্রদেয় ভোট ফেরত দিন।”এর পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেহেতু এই বিধায়ক এখন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে বা তাঁর দলে নেই, তাই নির্বাচনের ফলাফল থেকে তাঁদের দুই দম্পতির দেওয়া ভোট যেন অবিলম্বে বাদ দিয়ে পুনরায় গণনা করা হয়!

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সন্দীপবাবু বলেন, “আমি গোড়া থেকে তৃণমূল করি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই ভোট দিয়েছি। আমাদের ভোট নিয়ে যিনি বিধায়ক হলেন, তিনি নিজের পিঠ বাঁচাতে আজ অন্য শিবিরে চলে গেলেন। এই বেইমানি মেনে নেওয়া যায় না।” গণতন্ত্রে ভোটারদের মতামত নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের এই দলবদলের খেলায় সাধারণ মানুষের যে কী পরিমাণ মোহভঙ্গ হচ্ছে, বর্ধমানের সন্দীপ ভট্টাচার্যের এই অভিনব ও আইনি চিঠি যেন তারই এক চরম প্রমাণ। এখন দেখার, এই বেনজির চিঠির জবাবে নির্বাচন কমিশন বা নবান্নের তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসে কি না।

Exit mobile version