Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটের মুখে নজিরবিহীন ‘অ্যাকশন’! রাজ্যের ডজনখানেক এলাকায় ঢুকে পড়ল NIA; কোমর বেঁধে নামছে কমিশন!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার ভোটের ইতিহাসে সম্ভবত এক চরম মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্য। দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যজুড়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA (National Investigation Agency)-কে নামিয়ে কার্যত দাবার চাল বদলে দিল নির্বাচন কমিশন। স্রেফ টহলদারি নয়, যেখানে যেখানে বোমা উদ্ধার বা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, সেখানেই সরাসরি তদন্তের ভার তুলে দেওয়া হয়েছে NIA-র হাতে।

নির্বাচন কমিশনের কাছে খবর ছিল, রাজ্যের একাধিক এলাকায় অশান্তি পাকানোর জন্য মজুত করা হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে ৭৯ টি সকেট বোমা উদ্ধারের ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে দিল্লির নির্বাচন সদন। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা— “ভোটের আগে অশান্তি সহ্য করা হবে না।” আর সেই লক্ষ্যেই স্পর্শকাতর এলাকায় NIA-কে নামানোর এই ‘বেনজির’ সিদ্ধান্ত।

কমিশন সূত্রে খবর, কলকাতা থেকে জেলা— সর্বত্রই জাল বিছিয়েছে NIA-র একাধিক টিম। তালিকায় রয়েছে:
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙড়, কসবা, বারুইপুর এবং বিষ্ণুপুর।
উত্তর ২৪ পরগনা: ব্যারাকপুর এবং হাবড়া। এছাড়াও বর্ধমান, হুগলি এবং নদিয়া।

সাধারণত আইনশৃঙ্খলা রাজ্য পুলিশের এক্তিয়ারভুক্ত হলেও, বোমা উদ্ধার বা বিস্ফোরণ সংক্রান্ত ঘটনায় ‘শিডিউলড অফেন্স’ বা সন্ত্রাসবাদী যোগসূত্র খতিয়ে দেখার ক্ষমতা রয়েছে NIA-র। কমিশন মনে করছে, এই বোমাগুলি স্রেফ স্থানীয় অশান্তির জন্য নয়, এর নেপথ্যে কোনো বড় ‘ষড়যন্ত্র’ থাকতে পারে। NIA-র আগমনের ফলে একদিকে যেমন অপরাধীদের মনে ত্রাস সৃষ্টি হবে, তেমনই স্থানীয় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন কমিশনার।

শুধুমাত্র NIA নামানোই নয়, নিরাপত্তার গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং এসডিপিও-সহ ৫ জন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে কমিশন। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে সমস্ত বেআইনি অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই ‘NIA-অ্যাকশন’ রাজ্য রাজনীতির পারদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং অবাধ ভোট করাতে কমিশন এখন আর কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। ফলে এই এলাকাগুলিতে কেন্দ্রীয় সংস্থার জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু হতে চলেছে।

Exit mobile version