Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ ১১ প্রার্থী: মনোনয়নের মুখে আইনি বিপাকে তৃণমূল, চরম অস্বস্তিতে শাসক শিবির!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে এক নজিরবিহীন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের ঘোষিত প্রার্থী তালিকার ১১ জন হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম এখনও ভোটার তালিকার ‘বিবেচনাধীন’ বা ‘অ্যাডজুডিকেশন’ (Adjudication) পর্যায়ে আটকে থাকায় রীতিমতো চাপে ঘাসফুল শিবির। এই সংকট থেকে উত্তরণ পেতে শুক্রবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের হস্তক্ষেপ চেয়ে ৩ পাতার একটি বিস্তারিত ইমেল পাঠিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারেন না। প্রথম দফার নির্বাচনের মনোনয়নের শেষ দিন ৬ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার জন্য তা ৯ এপ্রিল। হাতে সময় অত্যন্ত কম থাকলেও তৃণমূলের ১১ জন প্রার্থীর নাম ভোটার তালিকার বিশেষ পুনরীক্ষণ (SIR) প্রক্রিয়ায় আটকে রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন বিদায়ী মন্ত্রী শশী পাঁজা (শ্যামপুকুর) এবং বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা কাজল শেখের (হাসন) মতো ব্যক্তিত্বরা। এছাড়াও উত্তরপাড়া, দেগঙ্গা, গোয়ালপোখর, মথাবাড়ি, সমশেরগঞ্জ, লালগোলা, নওদা এবং চণ্ডীতলার প্রার্থীরাও একই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

প্রধান বিচারপতিকে পাঠানো চিঠিতে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, কেন এই প্রার্থীদের নাম তালিকায় নেই বা কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, তার কোনো স্পষ্ট কারণ প্রশাসন বা কমিশন জানাচ্ছে না। দলের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে: অবিলম্বে এই ১১ জন প্রার্থীর নামের বিষয়ে দ্রুত বিচারবিভাগীয় নিষ্পত্তি করা হোক। প্রয়োজনে প্রতিদিন নিষ্পত্তিকৃত নামের একটি করে তালিকা প্রকাশ করা হোক যাতে প্রার্থীরা সময়মত মনোনয়ন জমা দিতে পারেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি তৃণমূলের জন্য বড় ধরনের ‘কৌশলগত অস্বস্তি’ তৈরি করেছে। এর কারণগুলো হলো: রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের ভোটার তালিকার তথ্য কেন আগেভাগেই নিশ্চিত করা গেল না, তা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই একে শাসক দলের ‘পেশাদারিত্বের অভাব’ হিসেবে প্রচার করতে শুরু করেছে। মনোনয়নের শেষ তারিখের আগে যদি এই ১১ জন প্রার্থীর নাম অনুমোদিত না হয়, তবে শেষ মুহূর্তে নতুন প্রার্থী খুঁজে পাওয়া এবং তাঁদের নিয়ে নির্বাচনি ময়দানে নামা তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। বিশেষ করে শশী পাঁজা বা কাজল শেখের মত প্রতিষ্ঠিত নেতাদের জায়গায় নতুন মুখ আনা মানে সংশ্লিষ্ট আসনে দলের জয়ের সমীকরণ বদলে যাওয়া। ভোটের ঠিক আগে এই আইনি লড়াই দলের নিচুতলার কর্মীদের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা হলেও চির ধরাতে পারে। যখন সাধারণ মানুষের ভোটার তালিকা নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠছে, তখন শাসক দলের প্রার্থীদেরই তালিকায় নাম না থাকাটা এক ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতারই ইঙ্গিত দেয়।

তৃণমূলের এই বিশেষ আবেদনের পর এখন আইনি ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যেহেতু প্রথম দফার মনোনয়নের সময়সীমা প্রায় শেষ পর্যায়ে, তাই উচ্চ আদালত এই চিঠির ভিত্তিতে কোনো জরুরি নির্দেশ দেয় কি না বা নির্বাচন কমিশন এই ১১ জন প্রার্থীর জট কাটাতে কোনো বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করে কি না, এখন সেটাই দেখার। সময় যেভাবে ফুরিয়ে আসছে, তাতে আদালত ও কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে এই ১১ জন প্রার্থীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

Exit mobile version