Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দুর্নীতি রুখতে সোমবারে বিশেষ অধিবেশন: রাজ্যে আসছে কড়া আইনি বিল!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে অপরাধ ও দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে এবার নজিরবিহীন ও অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। যেকোনো স্তরের আর্থিক দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং অসামাজিক কার্যকলাপ কঠোর হাতে দমন করতে আগামী সোমবার (২৯ জুন) একদিনের জন্য বিধানসভার বিশেষ জরুরি অধিবেশন ডাকা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী, এই বিশেষ অধিবেশনেই পাশ করানো হতে পারে অত্যন্ত কড়া জোড়া বিল। এর মধ্যে অন্যতম হলো দুর্নীতিগ্রস্তদের সম্পত্তি সরাসরি বাজেয়াপ্ত ও নিলাম করার আইন।

চলতি বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে এই নতুন আইনের কথা জানান। তিনি সাফ বলেন, “অনেকে ভাবছেন দুর্নীতি করে দু-মাস জেলে থাকবেন, তারপর জামিন পেয়ে যাবেন। কিন্তু এবার সেটা হবে না। আমরা নতুন বিল আনছি, যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা, সরকারি আধিকারিক বা অপরাধীদের বেআইনিভাবে অর্জিত সমস্ত সম্পত্তি সরকার সরাসরি বাজেয়াপ্ত করবে এবং তা নিলাম করে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে”।

বিধানসভার পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, চলতি অধিবেশনের প্রথম পর্ব ২৫ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং পরবর্তী পর্ব ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এই দুর্নীতি-বিরোধী ও অসামাজিক কার্যকলাপ দমন বিলটির খসড়া তৈরির কাজ এই মুহূর্তে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। আইনে যাতে কোনো রকমের আইনি ফাঁকফোকর না থাকে, তার জন্য বিশেষজ্ঞরা সবদিক খতিয়ে দেখছেন। সেই কারণেই মাঝের বিরতিতেই আগামী সোমবার একটি বিশেষ জরুরি অধিবেশন ডেকে দ্রুত বিল দুটি পাস করিয়ে নিতে চাইছে সরকার।

প্রস্তাবিত জোড়া বিলের মূল দিকগুলি: ১. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নিলাম আইন: রাজ্যের যেকোনো স্তরের দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিক, সিন্ডিকেট বা রাজনৈতিক নেতাদের বেআইনি সম্পত্তি সরাসরি বাজেয়াপ্ত (Property Seize) করা হবে। সরকারি বা সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করা হলে, অভিযুক্তের বাড়ি-জমি নিলাম করে সেই টাকা উসুল করা হবে। ২. অসামাজিক কার্যকলাপ ও সিন্ডিকেট দমন আইন: রাজ্যে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং অসামাজিক কার্যকলাপ ঠেকাতে পুলিশ ও প্রশাসনকে আইনিভাবে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির জন্য বিশেষ আদালত (Special Court) গঠনের পাশাপাশি কড়া শাস্তির বিধান থাকছে এই আইনে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরপ্রদেশ সরকারের কড়া মডেলের ধাঁচেই বাংলায় এই জোড়া বিল এনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট করে দিতে চাইছে নতুন সরকার। ইতিমধ্যেই বিধানসভার সমস্ত বিধায়কদের এই বিশেষ অধিবেশনে উপস্থিত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

Exit mobile version