প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি এবং বেনিয়ম রুখতে এবার নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। আগামী শনিবার চলতি বিধানসভা অধিবেশনেই এই সংক্রান্ত একটি যুগান্তকারী সংশোধনী বিল আনতে চলেছে নবান্ন। এই নতুন আইন পাস হলে, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের হাত থেকে সমস্ত আর্থিক ক্ষমতা সম্পূর্ণ কেড়ে নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বড় প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সম্প্রতি এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতের অন্য কোনো রাজ্যে পঞ্চায়েত প্রধানদের হাতে এভাবে সরাসরি বিল পাস বা আর্থিক লেনদেনের চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকে না। এই একচেটিয়া ক্ষমতার কারণেই তৃণমূলের বিগত জমানায় নিচু স্তরে বিপুল দুর্নীতি, কাটমানি এবং হিংসার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। তাই দুর্নীতিতে পূর্ণচ্ছেদ টানতে এবার ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পঞ্চায়েত অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ সংশোধন করা হচ্ছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পঞ্চায়েত প্রধানরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে বহাল থাকলেও কোনো ফান্ড বা খাতের টাকা খরচের চাবিকাঠি আর তাঁদের হাতে থাকবে না। প্রধানদের বদলে পঞ্চায়েতের সমস্ত আর্থিক লেনদেন, বিল পাস এবং টেন্ডার অনুমোদনের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে সরকারি আধিকারিক তথা পঞ্চায়েত সচিব (Panchayat Secretary) এবং এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টদের হাতে।
সরকারের যুক্তি, পঞ্চায়েত প্রধানরা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় দুর্নীতি করে দলবদল করলে বা পালিয়ে গেলে তাঁদের ধরা মুশকিল হয়। কিন্তু সচিবরা স্থায়ী সরকারি কর্মচারী হওয়ায় তাঁদের ওপর নবান্নের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। কোনো অনিয়ম হলে সরাসরি তাঁদের বরখাস্ত বা জেল খাটানো সম্ভব হবে।
আগামী শনিবার বিধানসভার অধিবেশনে এই বিলটি পেশ করতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। ১০০ দিনের কাজ (MGNREGS) থেকে শুরু করে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের কোটি কোটি টাকার গ্রামীণ ফান্ডের সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই বিল আনা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোকে পঞ্চায়েত স্তরের চোর-দুর্নীতিবাজদের রাতের ঘুম উড়ে যাবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
