প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শিক্ষক নিয়োগে বিগত দিনে হওয়া নজিরবিহীন দুর্নীতি ও ওএমআর শিট জালিয়াতি রুখতে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করতে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি (WBCSSC)-র কেন্দ্রীয় প্যানেলে রামকৃষ্ণ মিশনের তিন বিশিষ্ট সন্ন্যাসী বা মহারাজকে অন্তর্ভুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার সরাসরি মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল নবান্ন থেকে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ফেরানোর জোরালো দাবি তুলে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের অন্তর্ভুক্তির মতো বড় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন:“রাজ্যের প্রশাসনিক ভোলবদলের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রেও এবার বিরাট বদল আসছে। অতীতে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রাজ্যে যে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে, তা কারও অজানা নয়। বিগত সরকারের আমলে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সদস্যরা রাজনৈতিক দলের সংগঠন বা তাদের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে আসতেন। দলের নেতারা এই সব পদের দখল নিতেন। আমরা সেই ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়েছি। নিয়োগ দুর্নীতি রুখতে এবং স্বচ্ছতা ফেরাতে রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ এবং আইআইএম-এর অধ্যাপকদের স্কুল সার্ভিস কমিশনের সদস্য করা হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগ সংস্থাকে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে সরিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের “মানুষ গড়ার শিক্ষা”র আদর্শেই রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
স্কুল শিক্ষা দফতরের অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যে চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশনের সদস্য করা হয়েছে, তাঁরা হলেন: স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ: প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এবং সচিব, রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ এডুকেশনাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (RKMVERI)।স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানন্দ: প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ এবং সচিব, রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম, নরেন্দ্রপুর। স্বামী তত্ত্বসারানন্দ: বেলুড় মঠের ট্রাস্টি, রামকৃষ্ণ মিশনের গভর্নিং বডির সদস্য এবং গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচারের বর্তমান সচিব। অধ্যাপক রম্যা তারাকাদ ভেঙ্কটেশ্বরন: ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM), কলকাতার স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের স্বনামধন্য অধ্যাপক।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, ৩ কোটি মানুষের এবং ২০৮ জন বিধায়কের ঐতিহাসিক সমর্থন নিয়ে আসা তাঁর এই নতুন সরকার জনস্বার্থে কড়া পদক্ষেপ নিতে একচুলও পিছপা হবে না। মাত্র ১০৬ দিনের সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ সংস্কার ছাড়াও অন্যান্য বড় পদক্ষেপের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই শিক্ষায় স্বচ্ছতার পাশাপাশি ৭০ লক্ষ ভুয়ো ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করা হয়েছে এবং পিএসসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনিল ভার্গবের মতো সৎ আইএএস আধিকারিককে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান দুষ্মন্ত নারিয়ালার নেতৃত্বে এবং রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের উপস্থিতিতে এবার সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে বাংলার ছাত্রছাত্রীরা চাকরি পাবেন বলে আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।
