প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে সমাজবিরোধী ও অপরাধীদের দাপট রুখতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করতে চলেছে নবান্ন। উত্তরপ্রদেশ এবং গুজরাতের মতো রাজ্যগুলির কড়া আইনের ধাঁচে এবার পশ্চিমবঙ্গেও আসতে চলেছে অত্যন্ত কঠোর গুন্ডা দমন আইন। আগামীকাল বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল’। একই সাথে পেশ হবে দাঙ্গায় সম্পত্তি ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ আদায়ের আরও একটি সংশোধনী বিল।নবান্ন সূত্রে খবর, অপরাধ দমনে পুলিশকে কার্যত ‘ফ্রি-হ্যান্ড’ দিতেই এই বিল আনা হচ্ছে। তবে বিলটি পেশ হওয়ার আগেই তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে।
এই আইন পাশ হলে, কোনো ব্যক্তিকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১ বছর (১২ মাস) পর্যন্ত বিনা বিচারে আটকে (Preventive Detention) রাখা যাবে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সরকারের আগাম অনুমতি ছাড়াই যেকোনো সন্দেহভাজনকে ১৫ দিন পর্যন্ত নিজেদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।কোনো এলাকায় শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থাকলে, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে সেই এলাকা থেকে বহিষ্কার বা প্রবেশ নিষিদ্ধ করার আইনি ক্ষমতা পাবে প্রশাসন। অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে সম্পত্তি তৈরি করলে বা সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করলে, অভিযুক্তের সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম করে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। বেআইনি খনি, অবৈধ বালি খাদান সিন্ডিকেট, অস্ত্র পাচার, মাদক কারবারি (NDPS), বিস্ফোরক আইনের আসামী এবং মানবপাচারের সাথে যুক্তদের সরাসরি ‘গুন্ডা’ বা ‘সমাজবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
এই বিলের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের মনে ভয় ধরাতে এই আইনের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। অপরাধীরা এবার আইন হাতে তুলে নেওয়ার আগে পাঁচবার ভাববে। অন্যদিকে, এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলের লোকসভা সাংসদ মহুয়া মৈত্র এই বিলকে অত্যন্ত স্বৈরাচারী বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, এই বিলটি একসময়ের কুখ্যাত ‘মিশা’ (MISA) বা বর্তমানের ‘ইউএপিএ’ (UAPA) আইনের চেয়েও ১০ গুণ বেশি মারাত্মক, যা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হতে পারে।
আগামীকাল বিধানসভায় এই বিল পেশকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজায় অধিবেশন তুমুল উত্তপ্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য রাজনীতি এখন তাকিয়ে আগামীকালের বিধানসভা অধিবেশনের দিকে।
