প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং রাজনৈতিক হিংসা রুখতে এবার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিল নবান্ন। সোমবার থেকেই সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়ে গেল বহুচর্চিত ‘অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল’ বা গুন্ডাদমন আইন। গত ২৯ জুন রাজ্য বিধানসভায় পেশ হওয়ার পর এই বিলটি ধ্বনিভোটে পাস হয়েছিল। সম্প্রতি লোকভবনের অনুমোদন মেলায় আজ থেকেই রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনকে এই আইনের অধীনে লড়াকু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না। উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের কড়া গ্যাংস্টার আইনের ধাঁচেই তৈরি হয়েছে বাংলার এই নতুন আইনি কবচ।
নতুন এই আইনের ফলে পুলিশ কোনো ওয়ারেন্ট বা পরোয়ানা ছাড়াই সন্দেহভাজন সমাজবিরোধীদের গ্রেপ্তার করতে পারবে। আইনের ধারাগুলিকে সম্পূর্ণ অ-জামিনযোগ্য (Non-bailable) করায় অভিযুক্তদের আইনি ছাড় পাওয়া এবার কঠিন হবে। এছাড়া, শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় কোনো দাগী অপরাধী বা গ্যাং লিডারকে বিনাবিচারে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত আটকে (Preventive Detention) রাখতে পারবে প্রশাসন।
অপরাধীদের দাপট কমাতে জেলাশাসক (DM) এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের হাতে ‘তড়িদণ্ড’ বা বহিষ্কারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইন অমান্যকারী সমাজবিরোধীদের নির্দিষ্ট জেলা বা এলাকা থেকে ১ বছরের জন্য তাড়িয়ে দেওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে উপার্জিত যেকোনো অবৈধ সম্পত্তি ক্রোক ও নিলাম করার কড়া সংস্থান রাখা হয়েছে এই আইনে।
মূল বিলটির পাশাপাশি আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। এর আওতায় একটি বিশেষ ‘ক্লেমস কমিশন’ গঠিত হচ্ছে। আন্দোলন বা প্রতিবাদের নামে সরকারি বাস, ট্রেন বা বেসরকারি কোনো সম্পত্তি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হলে, এই কমিশন ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্যায়ন করবে। ভাঙচুরের উস্কানিদাতা এবং অর্থদাতাদের নিজস্ব সম্পত্তি নিলাম করে সেই টাকা উসুল করা হবে বলে সাফ জানানো হয়েছে সরকারের তরফে।স্বভাবতই এই জোড়া আইন কার্যকরের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
শাসক শিবিরের দাবি, সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ জরুরি ছিল। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির একে ‘দমনমূলক আইন’ বলে কটাক্ষ করেছে। তবে সব বিতর্ককে পাশে সরিয়ে আজ থেকেই অপরাধ দমনে কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন।
