Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“গ্যালারিতে হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী, বুঝুন কেন এই বিল দরকার!” বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পেশ করে হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে সমাজবিরোধী ও দুষ্কৃতী দমনে আরও এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সোমবার বিধানসভায় পেশ করা হলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফ্টি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ’ বা গুন্ডাদমন বিল। আর এই বিল পেশের পর আলোচনার জবাবে বলতে উঠে এক আবেগঘন ও নজিরবিহীন দৃশ্যের অবতারণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন অধিবেশন চলাকালীন বিধানসভার দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদের ওয়াকফ হিংসায় নিহত হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের পরিবারের সদস্যরা। বক্তব্যের মাঝেই গ্যালারির দিকে আঙুল দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গ্যালারিতে হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী বসে আছেন। এই বিল কেন দরকার, উনিই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হয় বিধানসভা। শাসক শিবিরের সমস্ত বিজেপি বিধায়ক নিজেদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান এবং করতালির মাধ্যমে গ্যালারিতে বসা ওই শোকার্ত পরিবারকে স্যালুট ও শ্রদ্ধা জানান।

উল্লেখ্য, গত বছর সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর, সামসেরগঞ্জ, সুতি ও ধুলিয়ানের মতো বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক হিংসা ছড়ায়। সেই অশান্তির মাঝেই বাড়ি থেকে টেনে বের করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসকে। এদিন সেই ঘটনার উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, কোনো আন্দোলনের নামে যারা ট্রেন-বাস পোড়ায়, সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ চালায় বা খুনখারাপি করে, তাদের রেয়াত করা হবে না। এই ধরণের সমাজবিরোধী মানসিকতার মেরুদণ্ড ভেঙে দিতেই এই নতুন আইন আনা হচ্ছে।

নতুন এই গুন্ডাদমন বিলের মাধ্যমে পুলিশ ও প্রশাসনকে বিপুল ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। এবার থেকে জেলাশাসক (DM) এবং পুলিশ কমিশনাররা সরাসরি দাগী অপরাধী ও সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং বাংলায় আইনের শাসন বজায় রাখতে এই বিল আগামী দিনে এক যুগান্তকারী ভূমিকা নেবে।

Exit mobile version