প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-প্রথম বার রাজ্যে ক্ষমতা দখলের পর বিধানসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক মুখেই বড়সড় সাংগঠনিক চমক দিল শাসকদল বিজেপি পরিষদীয় দল। শিলিগুড়ির হেভিওয়েট বিধায়ক ডক্টর শঙ্কর ঘোষ রাজ্য মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির নতুন সরকারি মুখ্য সচেতক (Government Chief Whip) করা হলো মালদার ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়িকে। নির্বাচনী সাফল্যের পর বিধানসভার অন্দরে দলের রণকৌশল সাজাতে এবং উত্তরবঙ্গ তথা মালদা জেলাকে বাড়তি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব দিতেই দল এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই আকস্মিক রদবদলে স্বভাবতই রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে অত্যন্ত গভীর এক রাজনৈতিক চাল। ঐতিহাসিক জয়ের পর মালদা এবং দুই দিনাজপুর সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গে নিজেদের আধিপত্য আরও মজবুত করতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। প্রথম বারের বিধায়ক হলেও অম্লান ভাদুড়ি দীর্ঘদিন ধরে মালদা জেলায় দলের সংগঠনকে শক্ত হাতে টেনেছেন। তাঁর এই সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের আক্রমণকে ভোঁতা করতে এবং সরকারি নীতি দক্ষতার সাথে পরিচালনা করতে একজন দক্ষ সংগঠকের প্রয়োজন ছিল। অম্লান ভাদুড়িকে এই পদে বসিয়ে বিজেপি মূলত মালদা ও সংলগ্ন অঞ্চলের দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে চাইছে, যা আগামী দিনে বিধানসভার কাজকর্মে দলের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।
অন্য দিকে, শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এত দিন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই পদ সামলেছেন। বিধানসভার ভেতরে বিভিন্ন বিতর্কে তাঁর বাগ্মিতা এবং ধারালো আক্রমণ নজর কেড়েছিল। সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় তাঁর পূর্ণ মন্ত্রী (Cabinet Minister) পদে অভিষেক হওয়ায় তাঁর এই পদ ছাড়তে হলো। এটি বিজেপির তরফ থেকে শঙ্কর বাবুর কাজের বড় পুরস্কার এবং প্রোমোশন। তবে মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আরেক জেলা মালদাকেও বড় দায়িত্ব দিয়ে উত্তরবঙ্গ ব্যালেন্স করার রণকৌশল নিল পদ্ম শিবির।
বিজেপির এই চালের পর স্বাভাবিকভাবেই নজর রয়েছে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের শিবিরের দিকে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, বিজেপির অন্দরে কোন্দল ঢাকতেই এই রদবদল। তবে বিজেপি শিবির এই সমস্ত দাবি উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, ক্ষমতায় আসার পর বিধানসভার ভেতরে দলের শৃঙ্খলা ও কাজের গতি বাড়াতেই এই রণকৌশল বদল। বাজেট অধিবেশনে নতুন মুখ্য সচেতকের নেতৃত্বে বিজেপি পরিষদীয় দল কীভাবে বিরোধীদের মোকাবিলা করে, এখন সেটাই দেখার।
