প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য বিধানসভার মত কড়া নিরাপত্তা বেষ্টিত হাই-প্রোফাইল চত্বরের ভেতরে এক অস্থায়ী ক্যান্টিন কর্মীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকালে বিধানসভার অন্দরে থাকা ক্যান্টিন সংলগ্ন একটি শৌচালয় থেকে ওই কর্মীর সংজ্ঞাহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি ময়দানে নেমেছে কলকাতা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম উমেশচন্দ্র দাস (৪৬)। তিনি তিলজলার বাসিন্দা ছিলেন এবং বিগত প্রায় ১৫ বছর ধরে বিধানসভার ক্যান্টিনে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সহকর্মীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে উমেশচন্দ্র দাস ক্যান্টিনের শৌচালয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ কেটে গেলেও তিনি বাইরে না আসায় বাকি কর্মীদের মনে সন্দেহ জাগে। শৌচালয়ের দরজাটি ভেতর থেকে শক্ত করে বন্ধ করা ছিল। সহকর্মীরা বারবার ডাকাডাকি ও দরজায় ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। অবশেষে কোনো উপায় না দেখে কর্মীরা পেছনের জানালা দিয়ে উমেশবাবুকে মেঝেতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এবং দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেন। তড়িঘড়ি বিধানসভার নিরাপত্তা আধিকারিক ও মার্শালকে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়। পুলিশ ও কর্মীদের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেন।
বিধানসভার মতো অতি সুরক্ষিত জায়গায় এমন একটি মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড (Homicide) শাখার একটি বিশেষ টিম। হেয়ার স্ট্রিট থানায় ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর (Unnatural Death) মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এবং সুরতহাল রিপোর্টের সময় মৃতের শরীরে কোনও বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এখনও পর্যন্ত অন্তর্ঘাত বা কোনও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের (Foul Play) প্রমাণ মেলেনি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শৌচালয়ের ভেতরেই হয়তো আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত (Heart Attack) হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত করতে দেহটি ময়নাতদন্তের (Post-Mortem) জন্য পাঠানো হয়েছে। উমেশবাবুর শেষ মুহূর্তের গতিবিধি খতিয়ে দেখতে বিধানসভা প্রাঙ্গণের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পরীক্ষা করছে পুলিশ। পাশাপাশি তাঁর কোনো পুরনো শারীরিক অসুস্থতা ছিল কি না, তা জানতে তাঁর সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পুরোপুরি পরিষ্কার হবে।
