প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- অবশেষে আসল খেলাটা শুরু হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ চাইছিলেন, যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিকরা, প্রশাসনের যে সমস্ত আধিকারিকরা রয়েছেন, তারা যাতে তৃণমূলের দলদাস হয়ে কাজ না করেন। ভোটের সময় যাতে নিরপেক্ষ আধিকারিকদের বসানো হয়। তাদের দিয়েই যাতে ভোট করানো হয়। কেননা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পছন্দ মত আধিকারিকদের বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে ভোট পরিচালনা করার একটা চেষ্টা করছিলেন, যাতে তৃণমূলের ফেভারে সবটা আসে। অন্তত বিরোধীরা তেমনটাই দাবি করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু গতকাল ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরেই নবান্নে নির্দেশিকা পাঠিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব পদে বদলের কথা জানিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। আর আজ সকালে যে খবর পাওয়া গেল, তাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মাথায় যে হাত পড়তে চলেছে, তা নিয়ে দ্বিমত নেই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
গতকাল নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব পদে বদলের নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে বড়সড় ধাক্কা দিয়ে দিলো নির্বাচন কমিশনের একটি নির্দেশ। যেখানে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, রাজ্যের বর্তমান ডিজি পীযূষ পান্ডের পদে বসানো হচ্ছে সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে। শুধু তাই নয়, কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদেও রদবদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যেখানে সুপ্রতিম সরকারের বিরুদ্ধে এতদিন অনেক অভিযোগ ছিল বিরোধীদের। আর এবার সেই পদে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর আনা হচ্ছে অজয় কুমার নন্দকে। একইভাবে রাজ্যের এডিজি আইনশৃঙ্খলা পদে থাকা বিনীত গোয়েলের জায়গায় অজয় মুকুন্দ রানাডেকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ভোট ঘোষণার পরেই একেবারে পুলিশ প্রশাসনের খোলনলচে বদলে ফেলে নিরপেক্ষ নির্বাচন যত হয় এবং নিরপেক্ষ আধিকারিকদের যাতে এই সমস্ত জায়গায় বসানো হয়, তার একটা চেষ্টা শুরু করে দিলো নির্বাচন কমিশন বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিঃসন্দেহে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এমনকি এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একটা বড়সড় ধাক্কা খেলেন। তিনি ভেবেছিলেন যে, যারা তার বিশ্বস্ত, তিনি তাদেরকে দিয়েই ভোট পরিচালনা করবেন এবং যতই এসআইআর হোক, তিনি সেই সমস্ত পুলিশ প্রশাসন এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের রেখে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেবেন এবং সেই মতই ভোট পরিচালিত হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাছে খুব ভালো মতই খবর ছিল যে, এই সমস্ত আধিকারিকদের রাখলে নিরপেক্ষতা যেমন লঙ্ঘন হবে, ঠিক তেমনই ভোট কোনোমতেই নিরপেক্ষ ভাবে সম্পন্ন হবে না। তাই সব দিক থেকে খোঁজ খবর নিয়েই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয় যাওয়ার পরেই একের পর এক কড়া সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। যার ফলে রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়বেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
