Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“যেকোনো মুহূর্তে…” অর্জুনের বিস্ফোরক মন্তব্যে শোরগোল! বিধানসভায় মদন মিত্রের কাঁধে হাত রেখে বড় জল্পনা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভার অলিন্দে কি তবে নতুন কোনো রাজনৈতিক ঝড়ের পূর্বাভাস? বুধবার রাজ্য বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে প্রবীণ বিজেপি নেতা অর্জুন সিংহের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আচমকাই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কামারহাটির হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের কাঁধে হাত রেখে অর্জুন সিংহের এই বার্তা ঘিরে ইতিমধ্যেই নতুন কোনো সমীকরণের জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বাইরে যখন দুই শিবিরের রাজনৈতিক লড়াই তুঙ্গে, তখন বিধানসভার ভেতরের এই ছবি রীতিমতো চমকে দিয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দুঁদে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও।

এদিন বিধানসভার করিডোরে আচমকাই মুখোমুখি হয়ে যান তৃণমূলের মদন মিত্র এবং বিজেপির অর্জুন সিংহ। একদা বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের দুই যুযুধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মুখোমুখি হতেই অবশ্য কোনো উত্তেজনার সৃষ্টি হয়নি। বরং সমস্ত রাজনৈতিক তিক্ততা দূরে সরিয়ে রেখে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন দুই নেতা। মদন মিত্রের কাঁধে হাত রেখে অর্জুন সিংহকে বেশ কিছুক্ষণ হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায়। দুই হেভিওয়েটের এই রসায়ন ক্যামেরাবন্দি হতেই বিধানসভা চত্বরে উপস্থিত সকলের নজর আটকে যায় সেই দিকে।

সৌজন্য বিনিময়ের মাঝেই পরিবেশ আরও হালকা করতে অর্জুন সিংহ হঠাৎই আউড়ে ওঠেন মদন মিত্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আইকনিক ডায়লগ— “ও লাভলি”। এরপরই সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে একটি বড়সড় মন্তব্য করে বসেন অর্জুন সিংহ। তিনি রসিকতার সুরে বলেন, “মদনদা যেকোনো মুহূর্তে আমাদের দিকে চলে আসতে পারেন।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আপাতদৃষ্টিতে এটি হালকা ছলে করা মন্তব্য হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক আবহে এর নেপথ্যে কোনো গভীর ইঙ্গিত রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দলের অন্দরে ফিসফাস শুরু হয়েছে।

অর্জুন সিংহের এই জল্পনা উস্কে দেওয়া মন্তব্যের পর অবশ্য অত্যন্ত চতুর ও কৌশলী অবস্থান নেন কামারহাটির বিধায়ক। তিনি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়িয়ে অত্যন্ত মার্জিত ভাষায় পরিস্থিতি সামাল দেন। মদন মিত্র জানান, বাংলার মানুষ এই মুহূর্তে শুধুই শান্তি চাইছে। এর পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর পুণ্য লগ্ন চলছে এবং এই আবহে সংস্কৃতির ঊর্ধ্বে উঠে অন্য কোনো রাজনৈতিক রেষারেষির অবকাশ নেই।

অতীতে ব্যারাকপুর ও ভাটপাড়া সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলে এই দুই নেতার রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াই এবং তীব্র বাগযুদ্ধ বহুবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে। দুই মেরুর দুই হেভিওয়েটের এই আকস্মিক ঘনিষ্ঠতা ও ক্যামেরার সামনে এমন মন্তব্য কি শুধুই বিধানসভার ভেতরের এক টুকরো সৌজন্যের ছবি, নাকি লোকচক্ষুর আড়ালে তৈরি হচ্ছে নতুন কোনো রাজনৈতিক চিত্রনাট্য? বিধানসভার অলিন্দে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এই একটাই কোটি টাকার প্রশ্ন।

Exit mobile version