প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের পর, এবার খোদ বিধানসভার অন্দরেই শুরু হয়ে গেল তীব্র রাজনৈতিক কম্পন। ১৮ তম বিধানসভার প্রথম দিনের অধিবেশন ও নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ পর্ব চলাকালীন বুধবার এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমার রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ কক্ষে এসে স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন একাধিক তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক, যা নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।
বুধবার বিধানসভার অলিন্দে রীতিমত গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যখন দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক হেভিওয়েট বিধায়ক একের পর এক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে প্রবেশ করছেন। সাক্ষাৎ কারীদের মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক নিয়ামত শেখ, রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান এবং সুতির বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস। আপাত দৃষ্টিতে একে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে চালানো হলেও, ভোট-পরবর্তী এই আবহে বিরোধী শিবিরের সংখ্যালঘু বিধায়কদের এভাবে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে ছুটে আসা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ঘরের বাইরে এসে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের সামনে এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি জানান, তৃণমূলের বেশ কয়েকজন বিধায়ক তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। শুধু তাই নয়, শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, ওই বিধায়করা নাকি এসে তাঁকে বলেছেন— “আমরা স্বাধীন হলাম দাদা!” মুখ্যমন্ত্রীর এই চাঞ্চল্যকর খোলসা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের টিকিট বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ এবং একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে জমতে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটল বিধানসভার অলিন্দেই?
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে বিপুল জনমত নিয়ে বাংলার মসনদে বসেছে বিজেপি। ২৯৪ টি আসনের মধ্যে একাই ২০৭ টি আসনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে পদ্ম শিবির। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলি এসে ঠেকেছে মাত্র ৮০ টি আসনে। এই ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ২৪ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিজেপির এই বিপুল জয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে বিরোধী শিবিরে থাকা বিধায়কদের একাংশ নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এখন থেকেই নতুন সমীকরণের রাস্তা খুঁজছেন কি না, সেই জল্পনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিধানসভায় পা রেখেই শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নতুন সরকারের শাসনব্যবস্থায় কোনো লুকোছাপা বা ‘সিন্ডিকেট রাজ’ থাকবে না। সরকার সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে এবং সরাসরি জনগণের স্বার্থে পরিচালিত হবে। আইনি ও রাজনৈতিকভাবে এই সাক্ষাৎকে তৃণমূলের তরফ থেকে স্রেফ বিধানসভার ‘সৌজন্য’ বলে দাবি করা হলেও, খোদ তৃণমূল বিধায়কদের মুখ থেকে ‘স্বাধীনতা’ পাওয়ার মতো শব্দবন্ধের উল্লেখ (শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী) শাসক শিবিরের অন্দরের ফাটলকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিধানসভার প্রথম দিনেই যদি এই ছবি হয়, তবে আগামী দিনে বঙ্গ রাজনীতিতে আরও বড় কোনো চমক অপেক্ষা করছে কি না, সেটাই এখন দেখার!
