Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

কমিশনে নালিশের পাহাড়, তবুও বাংলায় হিংসামুক্ত ভোটের নতুন ইতিহাস! বিগত জমানার রক্তাক্ত স্মৃতি ভুলিয়ে দিল নন্দীগ্রাম-রেজিনগর?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তনের পর প্রথম হাইপ্রোফাইল বিধানসভা উপনির্বাচন সম্পন্ন হলো। গতকাল, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই কেন্দ্র—পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিনভর রাজনৈতিক পারদ ছিল তুঙ্গে। দুই কেন্দ্রেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো, যেখানে সামগ্রিক ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ভোট গ্রহণ চলাকালীন বিকেল পর্যন্ত কমিশনে মোট ৯৭ টি বিক্ষিপ্ত অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে বাংলার ভোটের ইতিহাসের তুলনায় এবার কার্যত কোনো বড়সড় রক্তপাত বা হিংসা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

ভোট চলাকালীন দুই কেন্দ্র থেকেই বুথ জ্যাম বা এজেন্টদের বসতে না দেওয়ার মতো মোট ৯৭টি অভিযোগ কমিশনের পোর্টালে জমা পড়ে। রেজিনগরে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে পুলিশ আটক করে এবং ভোট লুটের অভিযোগে থানার সামনে অবস্থানে বসেন কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামেও কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বিরোধীদের এই সমস্ত অভিযোগের সিংহভাগই ছিল মূলত রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল। অতীতে পঞ্চায়েত বা বিধানসভা নির্বাচনে যেভাবে বোমাবাজি, গুলি চালনা এবং বুথ দখলের মতো রক্তক্ষয়ী হিংসা দেখা যেত, বর্তমান সরকারের অধীনে এই উপনির্বাচনে সেই ধরনের কোনো বড়সড় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটাররা অত্যন্ত উৎসবের মেজাজে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ৭৯ শতাংশ এবং রেজিনগরে ৭৮.৪২% রেকর্ড ভোটদান তারই প্রমাণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বিরোধীদের তোলা ভোট লুট ও কারচুপির সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বিজেপি। নন্দীগ্রামে নিজের ভোট দেওয়ার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানান, “ভোট সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, অবাধ এবং উৎসবের মেজাজে হয়েছে। বাংলায় অতীতে যেভাবে ভোটের নামে রক্তের হোলি খেলা হতো, বিজেপি সরকারের আমলে সেই জমানা শেষ হয়েছে। মানুষ নির্বিঘ্নে নিজের ভোট দিয়েছেন। আসলে নিচে কোনো জনভিত্তি বা পোলিং এজেন্ট দেওয়ার লোক নেই বলেই, নিশ্চিত হারের ভয়ে বিরোধীরা এখন অবাস্তব অভিযোগের অজুহাত খাড়া করছে।” বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, বর্তমান সরকারের কড়া প্রশাসনিক নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তার কারণে কোনো বড়সড় অশান্তি ছাড়াই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই গণতন্ত্রের উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর এই প্রথম উপনির্বাচন হওয়ায় এই দুই আসনের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য। আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ (শুক্রবার) এই উপনির্বাচনের ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

Exit mobile version