Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

উপনির্বাচনের মুখে মমতার শিবিরে বিরাট ভাঙন? নন্দীগ্রামের পর রেজিনগরেও যা ঘটল, তা কেউ ভাবেনি!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আসন্ন উপনির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন তোলপাড় ঘটে গেল। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের পর এবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও ভোটের ময়দান ছাড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। আজ, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) সকালে, রেজিনগর উপনির্বাচনের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (MAITC) প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী নিজে তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহারের চূড়ান্ত ঘোষণা করেছেন। আজ শনিবারই ছিল নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই রবিউল আলম চৌধুরীর এই আকস্মিক পিছু হটার সিদ্ধান্তে মুর্শিদাবাদ তথা গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এর ফলে আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে রাজ্যের এই দুটি হাইপ্রোফাইল আসনের কোনোটিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের আর কোনো প্রতীক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রার্থী রইল না।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনবারের প্রাক্তন বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী মূলত সাংগঠনিক ও নতুন প্রতীকের সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান: “আমাদের দলের নতুন নাম ও নতুন প্রতীক হয়েছে। এত কম সময়ের মধ্যে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত সাধারণ ভোটারের কাছে এই প্রতীক পৌঁছে দেওয়া এবং তা চেনানো একটা বিরাট বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।” রবিউল সাহেবের দাবি, দলের কর্মীদের উপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং দলের অনেককে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে কর্মীরা মাঠে টিকতে পারছিলেন না এবং তাঁরাও চাইছিলেন না যে এই অবস্থায় ভোটে লড়াই হোক। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, এই বিষয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে তাঁর সরাসরি কথা হয়েছে। রবিউল আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘দিদি বলেছেন, যা ভালো বোঝো করো’। নেত্রীর সবুজ সংকেত মেলার পরেই তিনি বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

ঠিক একদিন আগেই, অর্থাৎ শুক্রবার, নন্দীগ্রামের মমতাপন্থী তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। নন্দীগ্রামের সেই রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীর এই সিদ্ধান্ত মমতা শিবিরের জন্য একটি বড় সাংগঠনিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা জানালেও, রেজিনগরের ক্ষেত্রে তিনি ‘পরে ভাববেন’ বলে জানিয়েছেন। শেষ মুহূর্তে এই দুই কেন্দ্রেই মমতাপন্থী তৃণমূলের কোনো প্রতীক না থাকা শাসকদল বিজেপির হাতকে অনেকটাই শক্ত করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Exit mobile version