Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটের ঠিক মুখে নজিরবিহীন কাণ্ড! এক ঝটকায় নওশাদের হাত থেকে দামী জিনিস কেড়ে নিল কমিশন! অন্তরালে কি বড় রাজনৈতিক চাল?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনের ঠিক মুখে এ রাজ্যের প্রতীক রাজনীতিতে এক চরম নাটকীয় ও নজিরবিহীন মোড় এলো। ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির দল ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’ (ISF)-এর দীর্ঘদিনের পরিচিত ও ভোটারদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় নির্বাচনী প্রতীক ‘খাম’ (Envelope) এক ঝটকায় কেড়ে নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। প্রতীক হাতছাড়া হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নওশাদ।

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন দলটির মূল নাম ও ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক ফ্রিজ বা স্থগিত করে দেয়। এর পরেই তৃণমূলের বিদ্রোহী তথা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে নতুন দল হিসেবে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (DTMC) নাম এবং তাদের পছন্দের তালিকায় থাকা ‘খাম’ প্রতীকটি গতকাল (১৮ সেপ্টেম্বর) সরকারিভাবে বরাদ্দ করে কমিশন। কিন্তু আসল গোল বাঁধে যখন দেখা যায়, ২০২১ সাল থেকে আইএসএফ (ISF) এই ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে লড়ছে এবং আসন্ন উপনির্বাচনের জন্যও তাদের প্রচার সামগ্রী ও দেওয়াল লিখন তৈরি হয়ে গিয়েছিল। এই নিয়ে তীব্র আপত্তির পর আজ, ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) কমিশন সাফ জানিয়ে দেয়—আইএসএফ যেহেতু কোনো স্বীকৃত দল নয়, তাই নিয়ম মেনে ফ্রি-সিম্বল তালিকা থেকে ‘খাম’ দেওয়া হয়েছে ঋতব্রতদের। আর তার বদলে নওশাদ সিদ্দিকির দলকে দেওয়া হয়েছে নতুন ‘আলমারি’ (Almirah) প্রতীক।

ভোটের মাত্র কয়েকটা দিন বাকি থাকতে চিহ্নের এই রদবদলকে গভীর ষড়যন্ত্র বলে ব্যাখ্যা করছে ওয়াকিবহাল মহল। নন্দীগ্রামের মত স্পর্শকাতর কেন্দ্রে শেষ মুহূর্তে প্রতীক বদলে যাওয়ায় ভোটারদের দুয়ারে গিয়ে নতুন করে ‘আলমারি’ চেনানো আইএসএফ কর্মীদের জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। শুধু নওশাদ নন, একই দিনে ধাক্কা খেয়েছেন রেজিনগরের হুমায়ুন কবিরের দল ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-ও। তাদের দীর্ঘদিনের ‘বাঁশি’ প্রতীক কেড়ে নিয়ে তা তামিলনাড়ুর থলপতি বিজয়ের দল ‘টিভিকে’ (TVK)-কে দেওয়া হয়েছে এবং হুমায়ুনকে দেওয়া হয়েছে ‘টেবিল’ প্রতীক! এক রাতেই বিরোধী শিবিরের চেনা সমীকরণ এভাবে ওলটপালট হয়ে যাওয়ার পেছনে পর্দার আড়ালে কোনো বড় রাজনৈতিক চাল রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

Exit mobile version