প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতার মসনদে বসার পর রাজধর্ম পালনের পাশাপাশি যে প্রকৃত ‘জনগণের অভিভাবক’ হয়ে ওঠা যায়, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি। এবার জটিল রোগে আক্রান্ত ৯ বছরের এক অসহায় শিশু আরোহীর আজীবনের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি যে অনন্য মানবিকতার নজর গড়লেন, তা এককথায় অভূতপূর্ব। স্রেফ সদিচ্ছা ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার টানে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সরাসরি আরোহীর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার প্রশংসা এখন রাজ্যজুড়ে।
আরোহী নামের ওই ছোট্ট শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে এক অতি জটিল রোগের সঙ্গে লড়াই করছে। চিকিৎসার বিপুল খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি যখন সম্পূর্ণ দিশেহারা এবং চতুর্দিক থেকে নিরাশ, ঠিক তখনই তাদের জীবনে আশার আলো হয়ে দেখা দিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারটি তাঁর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে উপস্থিত হওয়া মাত্রই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে তাদের সমস্যার কথা শোনেন। কোনো প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা বা আমলাতান্ত্রিক টালবাহানা নয়, শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ঘোষণা করেন, আরোহীর চিকিৎসার সমস্ত আর্থিক ব্যয়ভার তিনি আজীবন বহন করবেন। বিপদের দিনে রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রধানের এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত ও অভিভাবকসুলভ আচরণ আরোহীর পরিবারকে নতুন করে বাঁচার অক্সিজেন জুগিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেখালেন কাজের গতি এবং সদিচ্ছা কাকে বলে। শুধু মুখের আশ্বাসেই তিনি থেমে থাকেননি; আরোহীর উন্নত ও বিশ্বমানের চিকিৎসার জন্য তাকে তামিলনাড়ুর ভেলোরে পাঠানোর সমস্ত নিখুঁত ব্যবস্থাও তিনি নিজে তদারকি করে সম্পন্ন করেছেন। যাতায়াত থেকে শুরু করে হাসপাতালের যাবতীয় খরচ—সবটাই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে নিশ্চিত করা হচ্ছে। তাঁর এই কাজের ক্ষিপ্রতা এবং আন্তরিকতা প্রমাণ করে যে, তিনি শুধু রাজদণ্ড হাতে নেওয়া শাসক নন, প্রকৃত অর্থেই এক সংবেদনশীল জননেতা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই মানবিক উদ্যোগের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা বিপুল সাড়া ফেলেছে। নেটিজেনদের একাংশ দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই মহৎ কাজের অকুণ্ঠ প্রশংসা করছেন। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধি তো অনেকেই হন, কিন্তু মানুষের চোখের জল মুছে এভাবে চটজলদি পাশে দাঁড়ানোর মতো উদার মানসিকতা ক’জনের থাকে? সরকারি জটিলতার তোয়াক্কা না করে যেভাবে তিনি সাধারণ মানুষের প্রকৃত ‘ত্রাতা’ হয়ে উঠছেন, তা সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। আরোহীর পরিবারের কাছে তিনি আজ শুধু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নন, বরং সাক্ষাৎ এক দেবদূত।
