Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

পুজোর মাসে রাজ্যে ডেঙ্গির তাণ্ডব! মাত্র ২৩ দিনেই সাড়ে ৫ হাজার পার! লাফিয়ে বাড়ছে গ্রাফ, চিন্তায় প্রশাসন!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের মরশুমের মাঝেই গোটা রাজ্য জুড়ে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গির মারণ কামড়। পুজোর মাস অক্টোবরে সংক্রমণের গ্রাফ যে হারে ঊর্ধ্বমুখী, তা স্বাস্থ্য ভবনের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৩ দিনেই রাজ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। বিগত সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় এই সংক্রমণ প্রায় দ্বিগুণ গতিতে ছড়াচ্ছে, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। স্বাস্থ্য দফতর ও পুরসভাগুলির লাগাতার সচেতনতা প্রচার এবং মশা নিধন অভিযানের পরেও কেন এই লাগামহীন বৃদ্ধি, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

গত দুই মাসের সরকারি পরিসংখ্যান দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে যে রাজ্যে ডেঙ্গির বিস্তার কতটা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্য জুড়ে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ১৭২ জন। চলতি মাসের মাত্র ২৩ দিনেই সেই সংখ্যা একধাক্কায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি! বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯৯ জন রোগী, যাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সব মিলিয়ে চলতি ২০২৬ বছরে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে সাড়ে ১২ হাজারের গণ্ডি।

রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের জেলাভিত্তিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি জেলায় সংক্রমণ কার্যত মহামারীর রূপ ধারণ করেছে। আক্রান্তের সংখ্যার বিচারে বর্তমানে তালিকার প্রথম চারটি জেলা হলো: মুর্শিদাবাদ (সংক্রমণের নিরিখে সবার উপরে), হাওড়া, কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনা। বিশেষ করে কলকাতা ও সংলগ্ন উত্তর ২৪ পরগনার জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে আবর্জনার স্তূপ এবং বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা জল এই মশার বংশবৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন পতঙ্গবিদরা।

পুজোর মরশুমে মানুষ যখন উৎসবে মেতে, ঠিক তখনই ডেঙ্গির এই বাড়বাড়ন্ত রুখতে জেলা প্রশাসন ও পুরসভা গুলিকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। প্রতিটি ব্লকে মশার তেল ছড়ানো, জমা জল পরিষ্কার করা এবং ফিভার ক্যাম্প (Fever Camp) করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, হালকা জ্বর বা গা-হাত পায়ে ব্যথা হলেই অবহেলা না করে অবিলম্বে রক্তের প্লেটলেট পরীক্ষা করানো জরুরি।

Exit mobile version