প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে পরিবর্তনের ঐতিহাসিক পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক ভাগ্য ফেরাতে এবার কোমর বেঁধে আসরে নামল নতুন শাসকদল বিজেপি। রাজ্যের ভঙ্গুর আর্থিক পরিকাঠামো পুনর্গঠন এবং দীর্ঘদিনের শিল্প-খরা কাটানোর চূড়ান্ত ব্লুপ্রিন্ট নিয়ে দিল্লিতে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে মিলিত হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। শনিবার সকালে ভারতের নতুন দিল্লির বাসভবনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে তাঁর এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি নতুন রাজ্য সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডাকে দ্রুত বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল।
নবান্নে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর এখন রাজ্যবাসীর মূল নজর অর্থনৈতিক সংস্কার এবং নতুন কর্মসংস্থানের দিকে। এই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই এদিনের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প খাতের বর্তমান দশা এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিজেপি নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের দাবি, বিগত কয়েক দশকে ধারাবাহিক নীতিগত ও রাজনৈতিক স্থবিরতার কারণে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী শিল্পক্ষেত্রগুলি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছিল মানুষের মাথাপিছু আয়ের ওপর। এর ফলে লক্ষ লক্ষ কর্মক্ষম যুবক-যুবতী পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হন। রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এবার সেই ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে দ্রুত শিল্পায়নের চাকা ঘোরানোই নতুন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
বৈঠক শেষে শমীক ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি কেবল কোনো রাজনৈতিক স্লোগান ছিল না, বরং তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট এবং বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা তাঁদের কাছে রয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে বাংলার বন্ধ কলকারখানা পুনরুজ্জীবিত করা, নতুন শিল্পতালুক বা টেক্সটাইল হাব গঠন এবং রাজ্যের সার্বিক পরিকাঠামো পরিবর্তনের জন্য একটি বিশেষ আর্থিক রোডম্যাপ এবং কেন্দ্রীয় সহায়তার বিষয়ে অত্যন্ত সদর্থক আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকায় (ডবল ইঞ্জিন) প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে প্রকল্পগুলির গতি বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য সভাপতির এই দিল্লি সফরের মূল বার্তা হলো নতুন সরকারের অধীনে ঘরেই কাজের সুযোগ তৈরি করা। পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফিরিয়ে এনে বাংলায় আন্তর্জাতিক মানের কর্মসংস্থানের পরিবেশ গড়ে তোলার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর দরবারে এই তৎপরতা। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীও নতুন রাজ্য সরকারের অধীনে বাংলার অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সার্বিক উন্নয়নে কেন্দ্রের তরফ থেকে সব ধরনের সাহায্য ও পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর দিল্লির এই মেগা বৈঠক প্রমাণ করছে যে, কথার লড়াই ভুলে এবার সরাসরি কাজের ময়দানে নেমে পড়েছে নতুন সরকার। এখন দেখার, কেন্দ্র-রাজ্যের এই যৌথ সমন্বয়ে বাংলার বন্ধ কলকারখানার চাকা কত দ্রুত ঘোরে এবং যুবসমাজ ঘরের মাঠেই কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ খুঁজে পায়।
