প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নবান্নের অলিন্দে এখন অন্য হাওয়া, অন্য গতি! যে নবান্ন বিগত দেড় দশক ধরে শুধু ফাইল চালাচালি, লাল ফিতের ফাঁস আর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার ‘ধুনো’ দিয়ে এসেছে, আজ সেখানে এক্কেবারে উল্টো ছবি। বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকারের এই নতুন সূর্যোদয় যেন রাতারাতি বদলে দিয়েছে কাজের সংস্কৃতি। সৌজন্যে? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপসহীন জেদ আর কঠোর প্রশাসনিক তদারকি। গতকাল নবান্নে এসেছিলেন দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা আদানি পোর্টস-এর এমডি করণ আদানি। আর তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আজ সোজা নবান্নে হাজির স্বয়ং কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল! শুভেন্দু প্রশাসনের এই নজিরবিহীন পেশাদারিত্ব এবং গতিশীলতা দেখে এখন রাজ্য রাজনীতি থেকে শিল্প মহল—সব মহলেই ধন্য ধন্য পড়ে গিয়েছে।
সূত্রের খবর, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্যই হলো রাজ্যে একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং আধুনিক গ্রিনফিল্ড গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। পূর্বতন সরকারের জমানায় যে প্রকল্পগুলি স্রেফ সদিচ্ছার অভাবে বিশ বাঁও জলে চলে গিয়েছিল, শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হতেই সেগুলিতে এখন যুদ্ধের গতিতে কাজ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফাইল বন্দি দশা থেকে মুক্ত হয়ে আলোর মুখ দেখছে নতুন বন্দর। শুধু বড় বন্দরই নয়, জাহাজ মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে বাংলার অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহণ এবং ফেরি সার্ভিসের পরিকাঠামো উন্নয়নের একটি নিখুঁত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছে আজ। গঙ্গাবক্ষকে ব্যবহার করে কীভাবে বাণিজ্য ও যাত্রী পরিবহণ বাড়ানো যায়, তা নিয়ে শুভেন্দু প্রশাসনের তৈরি করা সুনির্দিষ্ট খসড়া দেখে মুগ্ধ খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সোনোওয়ালও।
গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শিল্পপতি গৌতম আদানির পুত্র করণ আদানির বৈঠক এই পোর্টেবল ও লজিস্টিকস খাতের বিনিয়োগকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং কাটমানি সংস্কৃতির কোমর ভেঙে দিয়ে শুভেন্দু সরকার কর্পোরেট দুনিয়াকে যে ‘জিরো টলারেন্স’ এবং ‘স্বচ্ছ ব্যবসাবান্ধব’ পরিবেশের ভরসা দিতে পেরেছে, এই জোড়া বৈঠক তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
দিনের শেষে সাধারণ মানুষের একটাই চাওয়া—কাজ আর কর্মসংস্থান। যে বন্দর এবং পরিকাঠামোর অভাবে বাংলার লক্ষ লক্ষ যুবকদের ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে পাড়ি দিতে হতো, শুভেন্দু অধিকারীর এই দূরদর্শী এবং গতিশীল প্রশাসন কি পারবে সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে? কেন্দ্রের মোদী সরকার এবং রাজ্যের শুভেন্দু সরকারের এই অভূতপূর্ব সমন্বয় ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা কিন্তু স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—এতদিনের বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে এবার হয়তো সত্যিই সমুদ্রে জোয়ার আসতে চলেছে বাংলার শিল্পে! অলস ফাইল চালাচালি বন্ধ করে কাজের কাজ যে করা যায়, তা করে দেখাচ্ছে বর্তমান নবান্ন। নজর থাকবে আমাদের, দেখতে থাকুন।
