Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ব্রেকিং নিউজ: রাজ্যে স্থগিত মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক? মোদী সরকারের এই বড় পদক্ষেপের জেরেই কি ওলটপালট সূচি!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য এক অতি বড় এবং চাঞ্চল্যকর খবর! আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার এক নজিরবিহীন জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের দেশব্যাপী মহাজণগণনা (Census of India) প্রক্রিয়ার ধাক্কাতেই রাজ্যের শিক্ষা সূচিতে এই বিরাট ওলটপালট হতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ স্বয়ং এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, দেশে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্ষেত্র স্তরে জনগণনার কাজ চলবে। এই সময়েই বড় বড় পরীক্ষা আয়োজন করলে তা সরাসরি জনগণনা প্রক্রিয়ার কাজে বাধা তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই আগামী ১ মার্চের আগে রাজ্যে কোনও বড় পরীক্ষা না নেওয়ার জন্য মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জনগণনার কারণে তৈরি হওয়া এই নতুন পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি লালু দাস স্কুল শিক্ষা দফতরের কমিশনারের কাছে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার একটি নতুন প্রস্তাবিত খসড়া রুটিন জমা দিয়েছেন। নয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা ১৫ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৬ মার্চ পর্যন্ত চলতে পারে।

পর্ষদের প্রস্তাবিত নতুন রুটিন এক নজরে:
• ২ মার্চ: প্রথম ভাষা
• ৩ মার্চ: দ্বিতীয় ভাষা
• ৫ মার্চ: ইতিহাস
• ৮ মার্চ: ভূগোল
• ১২ মার্চ: গণিত
• ১৩ মার্চ: ভৌত বিজ্ঞান
• ১৫ মার্চ: জীবন বিজ্ঞান
• ১৬ মার্চ: ঐচ্ছিক বিষয়

মাধ্যমিক পরীক্ষা মার্চের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পিছিয়ে যাওয়ার জেরে স্বাভাবিকভাবেই ধাক্কা খেতে চলেছে উচ্চমাধ্যমিক (Higher Secondary) এবং তার চতুর্থ সেমেস্টারের ফাইনাল পরীক্ষাও। নিয়ম অনুযায়ী, মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই উচ্চমাধ্যমিক শুরু হয়। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদও জনগণনা কমিশনের চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। শিক্ষা মহলের একাংশের ধারণা, মাধ্যমিক পিছিয়ে যাওয়ায় ২০২৭ সালের উচ্চমাধ্যমিকের ফাইনাল সেমেস্টার পরীক্ষা আগামী বছর দোলের (Holi) পরে আয়োজিত হতে পারে।

জনগণনার কাজে মূলত সরকারি স্কুলের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের একটি বড় অংশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষকেরা একই সাথে জনগণনার ডিউটি এবং বোর্ডের পরীক্ষার হলের ডিউটি কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে চরম সংশয় তৈরি হয়েছিল। দুই গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে এই সরাসরি সংঘাত এড়াতেই পর্ষদ ও শিক্ষা দফতর যৌথভাবে এই পিছোনোর সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে। তবে পরীক্ষা দু’সপ্তাহ পিছিয়ে গেলে সময়মতো খাতা মূল্যায়ন ও মে মাসের মধ্যে রেজাল্ট প্রকাশ করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে শিক্ষক সংগঠনগুলির মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

(তবে পর্ষদ ও সরকারের তরফে এই পরিবর্তিত সময়সূচির খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হলেও, রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত সিলমোহর ও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির পরই এটি চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।)

Exit mobile version