প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহক এবং সাধারণ মানুষের জন্য এবার সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এলো রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। এবার থেকে আর তিন মাস অন্তর বিদ্যুতের বিলের জন্য চাতক পাখির মতো চশমা চোখে অপেক্ষা করতে হবে না। সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর চাপ কমাতে এবং বিলিং ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করতে এবার থেকে প্রতি মাসেই আসবে বিদ্যুতের বিল! বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন জনস্বার্থমুখী ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এতদিন পর্যন্ত রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার (WBSEDCL) অধীনে থাকা গ্রাহকদের প্রতি তিন মাস অন্তর বিদ্যুতের বিল দিতে হতো। এর ফলে একসঙ্গে একটি মোটা অঙ্কের টাকা বিল আসায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের বাজেট কার্যত ভেঙে পড়ত। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে চলেছে তাঁর সরকার। এখন থেকে নিয়ম বদলে প্রতি মাসেই বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা গ্রাহকদের হাতে বিল পৌঁছে দেবে, যাতে এক ধাক্কায় বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার বোঝা থেকে মানুষ রেহাই পান।
বিদ্যুতের বিল প্রতি মাসে করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ ‘স্মার্ট মিটার’ (Smart Meter) নিয়েও বিধানসভায় এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, রাজ্যে স্মার্ট মিটার বসানো আর কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক নয়। গ্রাহক চাইলে তবেই তা বসানো হবে, কোনো জোরজুলুম করা চলবে না। সরকারের এই ঘোষণায় রাজ্যের লাখ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক বড়সড় স্বস্তি পেলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।
বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে বড় প্রশাসনিক সংস্কারের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেন, বিদ্যুৎ দফতরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের (Customer Care Center) কর্মীর সংখ্যা এক ধাক্কায় সরাসরি দ্বিগুণ বা ২ গুণ করা হবে। এর ফলে লাইনে বিভ্রাট, ট্রান্সফর্মার বিকল হওয়া বা ভুল বিল আসার মতো যেকোনো অভিযোগ গ্রাহকেরা জানালে, আগের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে এবং দ্রুততার সাথে সেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই একের পর এক জনমুখী ঘোষণায় রাজ্য জুড়ে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দু’হাত তুলে স্বাগত জানাচ্ছে।
