Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

পুজোর মুখে হঠাৎ কেন তোলপাড় বাংলা? মমতার আমলের এক মারাত্মক সত্য ফাঁস করে একী হুঁশিয়ারি দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আসন্ন শারদোৎসবের ঠিক প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে এক তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হলো। আজ, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) কেষ্টপুরে একটি গণেশ পুজোর উদ্বোধনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিগত সরকারের আমলের এক মারাত্মক সত্য সবার সামনে নিয়ে এলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, বিগত তৃণমূল জমানায় সুকৌশলে বাংলার সনাতনী সংস্কৃতি ও উৎসবের শুচিতাকে ধ্বংস করার এক গভীর চক্রান্ত চলেছিল।উদ্বোধনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, পঞ্জিকা ও সনাতন ধর্ম মতে পিতৃপক্ষে কোনও শুভ কাজ করা নিষিদ্ধ। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পিতৃপক্ষেই দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল উদ্বোধন করে দেওয়া হতো, যা সনাতনী রীতিনীতির ঘোর পরিপন্থী।

বিগত সরকারের তোষণ নীতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, অতীতে এক বিশেষ সম্প্রদায়ের উৎসবের (মহররম) কারণে বাংলার হিন্দুদের পঞ্জিকা মেনে প্রতিমা নিরঞ্জন বা বিসর্জন করতে দেওয়া হতো না। জোর করে বিসর্জনের দিন বদলে দেওয়া হতো, যা বাংলার ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায়। এই মারাত্মক তথ্য ফাঁসের পাশাপাশি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান: বর্তমান বিজেপি সরকারের জমানায় নিয়মের কোনও অন্যথা হবে না। পিতৃপক্ষে কোনও প্যান্ডেল খোলা যাবে না, মহালয়া তথা দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার পরেই কেবল দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। পঞ্জিকায় বিজয়া দশমীর নিরঞ্জনের যে নির্দিষ্ট তিথি ও সময় লেখা থাকবে, সেই সনাতনী ঐতিহ্য ও পঞ্জিকা মেনেই বিসর্জন হবে, প্রশাসনিকভাবে তাতে কোনও জোর খাটানো বা দিনবদল বরদাস্ত করা হবে না।

মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের বিগত ৫০ বছরের শাসনকালকে কাঠগড়ায় তোলেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, বাম আমলে পুজোর মণ্ডপে স্বামী বিবেকানন্দ বা রামকৃষ্ণ মিশনের বইয়ের বদলে কার্ল মার্ক্স আর লেনিনের বই রাখা হতো। আর তার পরবর্তী তৃণমূল জমানায় ধর্ম ও উৎসবের নামে মানুষের মধ্যে কৃত্রিম বিভেদ তৈরি করে তোষণের রাজনীতি চালানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে পুজোকে সম্পূর্ণ শুচি ও ঐতিহ্যময় রাখতে একগুচ্ছ নতুন কড়া নিয়মের কথা মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। মহাঅষ্টমীর পবিত্রতা বজায় রাখতে ওই দিন গোটা রাজ্যে মদের দোকান ও বার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পুজো কমিটিগুলির সুবিধার্থে উৎসবের দিনগুলিতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। শব্দদূষণ রুখতে এবার পুজোয় ডিজে (DJ) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কোনও সরকারি পুজো কার্নিভাল হবে না।

Exit mobile version