Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

স্পিকারের বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় কালীঘাট! চূড়ান্ত চাল চালার আগে আইনি জল মাপছেন মমতা? বঙ্গ রাজনীতিতে জোর জল্পনা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনৈতিক ভাগ্যাকাশে এখন কুয়াশার ঘনঘটা। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর এবার নিজের তৈরি দলেই প্রবল ঝড়ের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। একদিকে ক্ষমতা হারিয়ে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসা, আর অন্যদিকে নিজেরই পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম— সব মিলিয়ে রাজপাটের অলিন্দে এখন শুধুই ভাঙাগড়ার খেলা। তবে এই চরম ডামাডোলের মধ্যেও কালীঘাট কি এখনই লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ছে? রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে কিন্তু শোনা যাচ্ছে সম্পূর্ণ অন্য জল্পনা। তড়িঘড়ি কোনো আইনি পদক্ষেপ না করে, মমতা পন্থী শিবির আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি বা ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ কৌশল নিয়েছে বলেই জোরালো গুঞ্জন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সচিবালয় থেকে বিদ্রোহী বিধায়কদের স্বীকৃতি দিয়ে ঠিক কী ধরনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা নোটিফিকেশন জারি করা হতে পারে, তার ওপরেই নাকি তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গুঞ্জন রয়েছে, কোনো মৌখিক রাজনৈতিক দাবি বা সংবাদমাধ্যমের বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং বিধানসভা সচিবালয়ের সরকারি বিজ্ঞপ্তির বয়ান দেখেই পরবর্তী আইনি চাল ঠিক করতে পারে কালীঘাট। দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহারা যে ৫৮ জন বিধায়কের সই স্পিকারের কাছে জমা দিয়েছেন, তাকে স্পিকার কীভাবে এবং কোন সাংবিধানিক ধারায় মান্যতা দিচ্ছেন— তা খতিয়ে দেখার পরেই নাকি সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই মুহূর্তে প্রতিটি চাল অত্যন্ত মেপে চালতে হচ্ছে কালীঘাটকে। রাজনৈতিক অলিন্দে জোর চর্চা, স্পিকারের সম্ভাব্য বিজ্ঞপ্তির প্রতিটি অনুচ্ছেদ ও শব্দের আইনি চুলচেরা বিশ্লেষণ করার পরেই শীর্ষ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করার রণকৌশল সাজানো হচ্ছে। কুণাল ঘোষ বা অসীমা পাত্রদের মতো শিবিরের বিশ্বস্ত সৈনিকরা ইতিমধ্যেই বিধানসভা সচিবালয়ে পাল্টা চিঠি দিয়ে সই জালিয়াতির অভিযোগ তুলে জল মেপে রেখেছেন বলে খবর। তবে এই সমস্ত কিছুই এখন রয়েছে সম্পূর্ণ জল্পনার স্তরে। একদিকে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে নতুন সমীকরণের দাবি, আর অন্যদিকে ক্ষমতা হারিয়েও আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিতে থাকা কালীঘাটের সম্ভাব্য চাল— সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে এক ইঞ্চিও জমি না ছাড়ার এই আবহ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তার চূড়ান্ত উত্তর দেবে একমাত্র ভবিষ্যৎ।

Exit mobile version