প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সংস্কৃতি, লোকপরম্পরা এবং প্রাচীন ঐতিহ্যকে বিশেষ মর্যাদা দিতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। আগামী ১৬ জুলাই দেশজুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হতে চলেছে রথযাত্রা উৎসব। তার ঠিক তিন দিন আগে, সোমবার নবান্ন সভাঘর থেকে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী এবং শতাব্দীপ্রাচীন রথযাত্রা কমিটিগুলোর জন্য এক বড়সড় আর্থিক অনুদান ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রশাসনিক এই সমন্বয় বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবারই প্রথম রাজ্য সরকার রথযাত্রার মতো একটি প্রাচীন উৎসবে সরাসরি ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গের বাছাই করা প্রায় ৬০টি প্রাচীন ও ঐতিহ্যশালী রথযাত্রা কমিটিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। আজ, ১৩ই জুলাই জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে চিহ্নিত এই যোগ্য কমিটিগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেকও সফলভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, বর্তমান সরকার উন্নয়ন এবং রাজ্যের প্রাচীন ঐতিহ্যকে সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে যে সমস্ত রথযাত্রা দশকের পর দশক ধরে (১০০ থেকে ১৫০ বছরের পুরনো) চলে আসছে, সেগুলির কৃষ্টি বজায় রাখাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। উৎসব কমিটির কর্তাদের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ আবেদন, এই অনুদানের অর্থ যেন মূলত পুরনো এবং কাঠের তৈরি ঐতিহ্যবাহী রথগুলির প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের কাজে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়।
শুধুমাত্র আর্থিক সাহায্যই নয়, উৎসবে শামিল হওয়া লাখো ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে একগুচ্ছ প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের দিনগুলিতে মাহেশ বা মহিষাদলের মতো রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথের মেলা প্রাঙ্গণে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের পরিচালনায় বিশেষ সরকারি ‘সেবাকেন্দ্র’ বা সাহায্য শিবির গড়ে তোলা হবে। পুরসভা ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত এই কেন্দ্রগুলি থেকে পুণ্যার্থীদের বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস ও প্রাথমিক চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি পরিষেবা প্রদান করা হবে। এর পাশাপাশি আগামী শ্রাবণ মেলা উপলক্ষ্যেও পুণ্যার্থীদের যাত্রাপথে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর একই ধরনের সেবাকেন্দ্র চালুর কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।
প্রথমবারের জন্য রথযাত্রায় রাজ্য সরকারের এই ধরণের ব্যাপক আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন খোলা মনে জানান, প্রথম বছর হওয়ায় প্রাথমিক তালিকা তৈরিতে যদি কোনো ছোটখাটো খামতি বা ত্রুটি থেকে থাকে, তবে তা আগামী দিনে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং জেলাশাসকদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধন ও সম্প্রসারিত করে নেওয়া হবে। রাজ্যের বিভিন্ন মঠ, মন্দির এবং উৎসব কমিটিগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের একাংশের মতে, এই বড় অনুদান ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো গঠন বাংলার ধর্মীয় পর্যটন ও লোক-উৎসবের বিকাশে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
