প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উত্তরাখণ্ড, গুজরাট এবং অসমের পর এবার পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code বা UCC) চালু করতে বিরাট ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি সরকার। নবান্ন ও বিধানসভা সূত্রে খবর, আগামী সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) একটি বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই বহুচর্চিত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিলটি পেশ করতে চলেছে সরকার।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার তথা ‘সংকল্প পত্রে’ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ৬ মাসের মধ্যে ইউসিসি বলবৎ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নির্বাচনে জিতে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেই ‘সংকল্প’ পূরণ করতেই এই বিল আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নবান্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, মূলত বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং লিভ-ইন সম্পর্কের মতো সামাজিক বিষয়গুলিকে একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর অধীনে আনতেই এই আইন। সম্ভাব্য খসড়ায় যেসব নিয়ম থাকতে পারে: বহুবিবাহে নিষেধাজ্ঞা: ধর্ম নির্বিশেষে রাজ্যে বহুবিবাহ বা একাধিক বিয়ে করা আইনত নিষিদ্ধ হতে চলেছে। লিভ-ইন সম্পর্কের নথিভুক্তিকরণ: উত্তরাখণ্ড ও অসমের পথেই হাঁটতে পারে বাংলা। লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা যুগলদের জন্য সরকারি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। নারীর সমানাধিকার ও সম্পত্তি: পৈত্রিক সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়েদের সমান আইনি অধিকার সুনিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি লিভ-ইন সম্পর্কের ফলে জন্মানো শিশুদেরও আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হবে। জনজাতিদের জন্য বিশেষ ছাড়: অসমের ধাঁচেই পশ্চিমবঙ্গের পাহাড় এবং জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও উপজাতি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের নিজস্ব সামাজিক প্রথা রক্ষা করতে তাদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বিধানসভায় বিজেপি সরকারের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি পাশ করিয়ে নিতে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের কোনও বেগ পেতে হবে না। বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর বিলটি চূড়ান্ত সিলমোহরের জন্য রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হবে। এই বিল পেশকে কেন্দ্র করে আগামী সপ্তাহে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় হতে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই এই আইনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই বিল সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। যদিও শাসক শিবিরের পাল্টা দাবি, এই আইন কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমাজে লিঙ্গ-সমতা ও নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই ‘এক দেশ, এক আইন’-এর এই সাংবিধানিক রূপায়ণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, আগামী সোমবার বাংলার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনের দিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।
