Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তৃণমূলের অন্দরে এ কীসের খেলা? কমিশনের ওয়েবসাইটে থাকা কোন গোপন সত্য ফাঁস করলেন ডেরেক?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) নাম ও প্রতীক ‘জোড়াফুল’-এর মালিকানা এবং দলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ECI) শুনানির আবহে হঠাৎ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। এই চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটের একটি ‘গোপন’ ও অলক্ষিত তথ্যকে সামনে এনে বিদ্রোহী শিবিরকে এক প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

বিদ্রোহী শিবিরের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে তৃণমূলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। এর জবাবে ডেরেক ও’ব্রায়েন চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটের নথির ওপরেই আলো ফেলেছেন। ২০০৬ সাল থেকেই দলীয় সংবিধান সংশোধন করে তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) তাদের জাতীয় কর্মসমিতির মেয়াদ ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করেছিল। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) ২০১০-১১ সালের সংবিধানের ৯(a) ধারায় এই বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ করা রয়েছে। ওই সংবিধানের ৯(a) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে—তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) প্রতিটি কমিটি এবং তার পদাধিকারী, কার্যনির্বাহী কমিটি ও সদস্যদের মেয়াদ সাধারণত ৫ বছর। ফলে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকেই এটা সম্পূর্ণ স্পষ্ট হচ্ছে যে তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার জাতীয় কর্মসমিতির মেয়াদ ৩ বছর নয়, বরং ৫ বছর। সেই হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির আইনি বৈধতা ২০২৭ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে।

চিঠিতে ডেরেক ও’ব্রায়েন অতীতে নির্বাচন কমিশনের সাথে হওয়া অফিশিয়াল চিঠিপত্র আদানপ্রদানের ইতিহাসও টেনে এনেছেন, যা এতদিন সাধারণ মানুষের আড়ালে ছিল। নির্বাচন কমিশনের আন্ডার-সেক্রেটারির মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) সভাপতির কাছে সাংগঠনিক নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছিল, দলের সাংগঠনিক নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নির্দিষ্ট ফরম্যাটে জমা দেওয়া হয়নি। সেই চিঠিতেই কমিশনের তরফে AITC-র সভাপতিকে দলের সাংগঠনিক নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য নির্দিষ্ট ফরম্যাটে এবং তার একটি সফট কপি, সম্ভব হলে CD-সহ ওই বছরের ৩০ জুনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সি নির্বাচন কমিশনের আন্ডার-সেক্রেটারিকে চিঠিতে জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি চিঠি ইতিমধ্যেই AITC-র চেয়ারপার্সনের তরফে কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে জাতীয় কর্মসমিতির সমস্ত সদস্য এবং দলের অন্যান্য পদাধিকারীর নাম উল্লেখ ছিল। এর পাশাপাশি চিঠির কপি ও দলীয় সংবিধানের একটি কপিও পাঠানো হয় এবং ওইদিনই নির্বাচন কমিশনের তরফে চিঠিটি গ্রহণ করা হয়। ডেরেকের স্পষ্ট অভিযোগ, ২০১৫ সালে তৃণমূলের সাংগঠনিক মেয়াদ নিয়ে AITC-র যে দলীয় সংবিধান নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছিল, সেখানে দলের পদাধিকারীদের মেয়াদ ৫ বছর উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন আজ পর্যন্ত সেই সংশোধিত তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড বা আপডেট করেনি। আর এই তথ্যগত ফাঁকফোকরকেই এখন রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বিরোধী ও বিদ্রোহী শিবির।

Exit mobile version