Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

এবার পুজো পুজো ভাব আসতে দেরি কেন? নেপথ্যে শুভেন্দু অধিকারীর কোন মাস্টারস্ট্রোক? জেনে নিন আসল কারণ!

 

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-“এবার পুজো পুজো ভাবটা যেন একটু দেরিতে এল!”—চলতি বছরের দেবীপক্ষের প্রাক্কালে কলকাতার রাজপথ থেকে মফস্বলের চায়ের দোকানে এই একটা মৃদু গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু একটু গভীরে গেলেই বোঝা যাবে, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের হারিয়ে যাওয়া গরিমা, পবিত্রতা এবং চেনা রোমাঞ্চকে এবার আক্ষরিক অর্থেই পুনরুদ্ধার করেছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। বিগত তৃণমূল জমানার সস্তার চমক আর কৃত্রিম হুজুগকে ধুয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন আপামর শিক্ষাবিদ, সনাতনপন্থী ও সাধারণ মানুষ। মহালয়ার পুণ্যলগ্নে চণ্ডীপাঠের পরেই এবার রাজ্যে ঢাকের কাঠি পড়েছে। তার আগে কোনও মণ্ডপ উদ্বোধন করতে দেওয়া হয়নি। শুভেন্দু সরকারের এই কড়া ও নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ কেন বাংলার সমাজজীবনে এক বিরাট স্বস্তি এনে দিল, তা দেখে নেওয়া যাক।

বিগত তৃণমূল জমানায় মহালয়ার এক সপ্তাহ বা দশ দিন আগে থেকেই পুজোর উদ্বোধন হয়ে যেত। ফলে প্রায় মাসখানেক ধরে চলত লাউডস্পিকারের তাণ্ডব আর মণ্ডপমুখী মানুষের ভিড়। এর সবচেয়ে বড় মাশুল গুনতে হতো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের। রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে কালঘাম ছুটত। তার ওপর মণ্ডপের তারস্বরে মাইক বাজার কারণে ঘরের ভেতরে পড়াশোনার পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট হতো। বিশেষত যাদের সামনে বোর্ড বা সেমিস্টার পরীক্ষা থাকত, তাদের মানসিক চাপ চরমে পৌঁছাত। শুভেন্দু অধিকারী এবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, উৎসবের নামে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা বরদাস্ত করা হবে না। উৎসবের নির্দিষ্ট দিনগুলির বাইরে অহেতুক মাইক বাজানো বন্ধ করায় স্বস্তিতে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া ও অভিভাবকেরা।

তৃণমূল জমানার ‘অকাল পুজো’ সংস্কৃতির কারণে মহালয়া আসার আগেই মণ্ডপ দর্শনের হিড়িক পড়ে যেত। ফলে ষষ্ঠী, সপ্তমী বা অষ্টমী আসার আগেই উৎসবের মূল আকর্ষণ হারিয়ে যেত। একটা সময় পর পুজোটা সাধারণ মানুষের কাছে একঘেয়েমি এবং ক্লান্তিকর মেলায় পরিণত হতো। বর্তমান সরকার পুজোকে তার নির্দিষ্ট ৫-৬ দিনের গণ্ডির মধ্যে রাখায় বাঙালির মনে সেই চেনা ‘পুজো পুজো’ রোমাঞ্চ ও টানটান উত্তেজনা আবার ফিরে এসেছে। মহালয়া থেকে দেবীর আবাহন আর পুজো শুরুর যে চেনা আনন্দ—তা মানুষ আবার নতুন করে উপভোগ করছেন।

শাস্ত্র মতে, মহালয়ার আগের সময়টা হলো কৃষ্ণপক্ষ বা পিতৃপক্ষ। এই শোকের ও তর্পণের দিনগুলিতে উৎসবের ফিতে কাটা বা আনন্দ উল্লাস করা সনাতন ধর্মের রীতিনীতির পরিপন্থী। বিগত দিনে রাজনৈতিক দেখনদারির জন্য দেবীর বোধনকে কৃষ্ণপক্ষের অশুদ্ধ সময়ে টেনে আনা হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী সেই কুপ্রথা ভেঙে ঘোষণা করেন, “পিতৃপক্ষে কোনও ভাঁওতাবাজি চলবে না, পুজো হবে শুধুমাত্র দেবীপক্ষে।” এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সনাতন সংস্কৃতির শাস্ত্রীয় শুদ্ধতা রক্ষা পেয়েছে।

পুজো এক মাস আগে থেকে শুরু হয়ে যাওয়ার কারণে শহরের অটো, টোটো বা রিকশাচালকরা রুট বন্ধ থাকায় তীব্র আর্থিক সংকটে পড়তেন। একই সমস্যা হতো জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী ও দিনমজুরদের। শুভেন্দু সরকারের সময়োপযোগী ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও নির্দিষ্ট সময়ে পুজো চালুর সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের রুজি-রোজগার সচল রয়েছে, তেমনই উৎসবের দিনগুলিতে ভিড় সামলানোও প্রশাসনের পক্ষে অনেক সহজ হয়েছে। সব মিলিয়ে, ফাঁকা চমকের রাজনীতি সরিয়ে বাঙালির আসল পুজো সংস্কৃতি এবং সমাজজীবনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে শুভেন্দু অধিকারী যে অত্যন্ত দূরদর্শী ও সঠিক কাজটাই করেছেন, তা আজ স্পষ্ট।

Exit mobile version