প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে এবার এক মারাত্মক আইনি সংঘাতের আবহ তৈরি হলো। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভাঙার ঘটনা এবং সেই সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র (Medical Records) অননুমোদিতভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ ও প্রচারের বিরুদ্ধে এবার তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে সরাসরি আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটলেন তাঁর আইনজীবী। রোগীর অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত মেডিক্যাল রেকর্ড এভাবে বাইরে আনা এবং তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগ তুলে আজ, সোমবার সরাসরি স্বাস্থ্য দফতর এবং SSKM হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর তরফে আজই কলকাতার পিজি হাসপাতাল তথা SSKM-এর অধিকর্তা (Director), হাসপাতালের ভাইস প্রিন্সিপাল এবং নিউরোলজি বিভাগের প্রধানকে (HOD) লক্ষ্য করে একটি কড়া আইনি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করা হয়েছে যে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভাঙার চিকিৎসা সংক্রান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য ও মেডিক্যাল রেকর্ড কোনো রকম পূর্ব অনুমতি বা আইনি ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই বেআইনি ও অননুমোদিতভাবে বাইরে আনা হয়েছে এবং তা জনসমক্ষে প্রচার করা হয়েছে। এই ঘটনা চিকিৎসা ক্ষেত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত ‘মেডিক্যাল গোপনীয়তা’ (Medical Confidentiality) এবং পেশাগত বিধির (Professional Code of Conduct) চরম লঙ্ঘন।অনুমতিহীনভাবে এই সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের পেছনে কার হাত রয়েছে, তা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২ অক্টোবর, যখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন যে, ২০২১ সালের ১১ মার্চের বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসের একটি রেডিওডায়াগনসিস রিপোর্ট অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনো ফ্র্যাকচার বা ডিসলোকেশন ছিল না এবং পুরো বিষয়টি সাজানো ছিল। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডি (CID)-কে দিয়ে একটি নতুন করে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন। বিজেপি সরকারের এই মেগা আক্রমণের পরই পাল্টা সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল বিধায়ক ও মুখপাত্র কুনাল ঘোষ এই রিপোর্টের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বিষয়টিকে ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার’-এর লঙ্ঘন বলে তোপ দাগেন। সেই রাজনৈতিক তরজার রেশ ধরেই এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের ময়দানে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। একজন নাগরিক তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসার কাগজপত্র কীভাবে হাসপাতাল থেকে বাইরে চলে গেল, এই নোটিশের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী অবস্থান নেয়, এখন সেটাই দেখার।
