প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতার দম্ভ চলে গেছে, কিন্তু কর্মের পুচ্ছটি কি রয়েই গেছে? নাকি নবান্নের মসনদ হাতছাড়া হতেই এখন রাজাবাজার থেকে ভবানী ভবনের অলিতে গলিতে শুধুই আইনি আতঙ্কের ছায়া? বিধানসভায় বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় এবার আইনি রক্ষাকবচ খুঁজতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন প্রাক্তন শাসকদলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডির নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে, তদন্ত প্রক্রিয়াকে কার্যত এড়ানোর মরিয়া চেষ্টায় আদালতের কড়া নাড়লেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। আজ, বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের এজলাসে মামলা দায়েরের অনুমতি পেয়েছেন অভিষেকের আইনজীবী। আগামী শুক্রবারই এই বহুচর্চিত মামলার শুনানির সম্ভাবনা। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ক্ষমতা থাকতে যে সিআইডি-কে বিরোধীরা ‘দলের ক্যাডার’ বলে কটাক্ষ করত, আজ সেই চেনা সিআইডি-র জালেই কেন খোদ ভাইপোকে এভাবে আদালতের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে? ক্ষমতার হাতবদল হতেই কি তবে নিরপেক্ষ তদন্তের হাওয়া ঘুরতে শুরু করেছে?
ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূল জমানার শেষ লগ্নে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রবীণ তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাবের একটি নথিকে কেন্দ্র করে। বিধানসভা সচিবালয়ের স্ক্রুটিনিতে ধরা পড়ে, প্রস্তাবক হিসেবে থাকা একাধিক বিধায়কের সই মেলা তো দূর অস্ত, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো ও জাল! খোদ স্পিকারের নির্দেশিকায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তদন্তের গতি বাড়াতে মাঠে নামে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি, গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’। ইতিমধ্যেই গোয়েন্দাদের জেরার মুখে একাধিক তৃণমূল বিধায়ক স্পষ্ট কবুল করেছেন—”নথিতে থাকা সই তাঁদের নয়।” অর্থাৎ, বিধানসভার মতো এক পরম পবিত্র প্রাতিষ্ঠানিক চত্বরে বসে, দলেরই সতীর্থদের স্বাক্ষর জাল করার মতো এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক জালিয়াতি চক্র চালানো হয়েছিল। আর এই সুসংগঠিত নথির পেছনের ‘আসল কারিগর’ কে, তা জানতেই সিআইডি ভবানী ভবনে তলব করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করাচ্ছে, সিআইডির প্রথম নোটিশের পর ‘অসুস্থতার’ চেনা স্ক্রিপ্ট আওড়ে হাজিরা এড়িয়েছিলেন অভিষেক। এরপর সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে গিয়ে নোটিশ দিয়ে আসেন এবং আগামী ৮ জুনের মধ্যে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন। আর সেই ডেডলাইনের আগেই, আজ হাইকোর্টে ছুটে গিয়ে নোটিশ খারিজের আবেদন এবং কোনোভাবেই যাতে ‘গ্রেফতার’ না করা হয়—সেই রক্ষাকবচের আর্জি জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
