প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় বিধানসভা ভোটের পালাবদলের পর থেকেই কি তবে তাসের ঘরের মতো ভাঙতে শুরু করেছে জোড়াফুলের সংসার? রাজনৈতিক মহলে এখন এই একটি প্রশ্নই সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। একদিকে যখন দলের অন্দরে পরিষদীয় ও সংসদীয় স্তরে বড়সড় ফাটলের গুঞ্জন তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক দিল্লি যাত্রা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের প্রশ্ন— বাংলায় যখন দলের ঘর সামলানোই প্রধান দায়, তখন কোন সমীকরণে দিল্লির বিমানে যুবনেতা?
বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলের দাবি, বাংলার ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই দলের অন্দরে একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ও কর্পোরেট স্টাইলে দল চালানো নিয়ে ক্ষোভ জমছিল। সেই অসন্তোষই এবার বিদ্রোহের আকার নিতে চলেছে বলে জল্পনা। লোকসভা ও বিধানসভার একাধিক জনপ্রতিনিধি নাকি নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও তৃণমূল শিবিরের দাবি, এই দিল্লি যাত্রা স্রেফ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পূর্বনির্ধারিত স্ট্র্যাটেজিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য, এর সাথে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের কোনো সম্পর্ক নেই।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে দলের সাম্প্রতিক কিছু দ্রুত সিদ্ধান্ত। সমস্ত কোর কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দিয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনকে জাতীয় যুগ্ম সম্পাদক পদে আনা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর মাধ্যমে আসলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক সাংগঠনিক ক্ষমতা কিছুটা রাশ টানার চেষ্টা চলছে। একদিকে যখন দিল্লিযাত্রাকে রাজনৈতিকভাবে ‘পলায়ন’ বলে খোঁচা দিচ্ছে বিরোধী শিবির, অন্যদিকে তখন এই যাত্রার আড়ালে কোনো বড় রাজনৈতিক সমঝোতার ছক রয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা উস্কে দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। ক্ষমতার অলিন্দ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর জোড়াফুলের এই অভ্যন্তরীণ সংকট আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
