প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১০টা বেজে ১৫ মিনিট। সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের ED কার্যালয়ের ভারী দরজাটা যখন খুলল, তখন বাইরে অপেক্ষারত সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার ফ্ল্যাশ আছড়ে পড়ল তাঁর মুখে। টানা ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়ে অবশেষে বাইরে বেরোলেন তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল ১০টা ৫৬ মিনিটে যখন তিনি দপ্তরে ঢুকেছিলেন, তখনকার আত্মবিশ্বাসী শরীরী ভাষার সঙ্গে রাত সোয়া ১০টার এই ক্লান্ত চেহারার ফারাকটা কি শুধুই সময়ের, নাকি ভেতরের খতিয়ানের? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে।প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও টাকা পাচারের (মানি লন্ডারিং) মামলায় একের পর এক তথ্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে। ইডি সূত্রের দাবি, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ কোম্পানির কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং পূর্বতন জমানার দুর্নীতির টাকা (Proceeds of Crime) কীভাবে কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঘুরপাক খেয়েছে, তার চুলচেরা হিসাব চেয়ে বসেন তদন্তকারীরা।রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, একের পর এক ডিজিটাল প্রমাণ ও ধৃত অভিযুক্তদের বয়ানের যে ক্রস-একজামিনেশন এদিন চলেছে, তাতে আইনি দিক থেকে রীতিমতো সাঁড়াশি চাপে পড়েছেন সাবেক জমানার এই দাপুটে নেতা।
বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে গিয়েছে। রাজ্যে এখন বিজেপির নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জমানায় প্রশাসনিক ক্ষমতার সেই পুরনো ‘ছাতা’ বা ‘রক্ষাকবচ’ আজ আর তৃণমূল নেতৃত্বের মাথায় নেই। আর ঠিক এই কারণেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বড় অংশের দাবি, এবার আর শুধু রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে পার পাওয়া কঠিন। বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান। কোটি কোটি টাকার নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে যখন লাখ লাখ যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকার করা হয়েছিল, তখন যারা ক্ষমতার অলিন্দে বসেছিলেন, আজ আইন তো তাদের দুয়ারে পৌঁছাবেই।
১১ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাইরে বেরিয়েই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সুর চড়ানোর চেষ্টা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তিনি বলেন, “আমার গলা কেটে দিলেও আমি মাথা নত করব না।” কিন্তু প্রশ্ন হলো, তদন্তকারী সংস্থা তো মাথা নত করাতে বলেনি, তারা চেয়েছে দুর্নীতির টাকার উৎস ও হিসাব!
গেরুয়া শিবিরের নেতাদের পাল্টা কটাক্ষ, ক্ষমতা হারিয়ে এখন এই ধরনের আবেগঘন ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলা আসলে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার শেষ চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। রাজপ্রাসাদে বসে যতই লম্বা চওড়া ভাষণ দেওয়া হোক না কেন, সিজিওর বদ্ধ ঘরে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের বাঘা বাঘা প্রশ্নের সামনে যে যুক্তি সাজানো সহজ ছিল না, তা স্পষ্ট। এই দীর্ঘ জেরার পর ইডি এবার পরবর্তী কী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।
