প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়ে এমনিতেই কোণঠাসা তৃণমূল শিবির। তার ওপর সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটপ্রচারে বিরোধীদের ওপর লাগামহীন রাজনৈতিক উস্কানি দেওয়ার নেপথ্যে থাকা বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে বড়সড় আইনি ফাঁসে দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাস সৃষ্টির উস্কানিমূলক ‘ডিজে (DJ)’ মন্তব্য মামলার তদন্তে আজ রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)-র সদর দফতর ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন অভিষেক। আজ বেলা ১১.৫৭ নাগাদ তিনি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে সেখানে পৌঁছান।
কেন্দ্রীয় ও রাজ্য এজেন্সির সাঁড়াশি চাপের মুখে অভিষেক। রবি ও সোমবারের পর আজ মঙ্গলবারও ভিন্ন মামলায় জেরার মুখে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে অভিষেক হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ৪ জুনের পর বাংলায় “রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে বাজবে” এবং বিরোধীদের কান ফেটে যাবে।বিধাননগর সাইবার থানা-র পর উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতেও এই উগ্র ও উস্কানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে।
পদ্ম শিবিরের স্পষ্ট দাবি, এই মন্তব্য আসলে নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর ও সামাজিক অশান্তি ছড়ানোর প্রকাশ্য লাইসেন্স ছিল। নির্বাচনী জনসভা থেকে দম্ভের সাথে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে শুরু থেকেই সরব ছিল বিজেপি। অভিযোগকারী ও আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, ৪ মের পর বিরোধীদের “কান ফাটানো” এবং “ডিজে বাজানোর” অন্তরালে লুকিয়ে ছিল এক ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হিংসাত্মক পরিকল্পনা। আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে দেওয়া এই চরম উস্কানিমূলক বক্তব্যের গুরুত্ব বুঝে প্রথমে বিধাননগর সাইবার থানা তদন্ত শুরু করলেও, পরে মামলার গুরুত্ব বুঝে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (CID) এর দায়িত্ব নেয়। গত ১২ জুন সিআইডি আধিকারিকরা কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে নোটিস দিয়ে আসার পর আজ বাধ্য হয়ে তিনি হাজিরা দেন।
রাজ্যের ক্ষমতায় আসা নতুন বিজেপি সরকারের স্পষ্ট বার্তা— বাংলায় আর কোনো রাজনৈতিক দাদাগিরি বা গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, বিজেপি নেতৃত্ব সাফ জানিয়েছেন, “তদন্তকারী সংস্থা আইন মেনে স্বাধীনভাবে কাজ করছে। যদি কোনো অপরাধ না করে থাকেন, তবে আদালতে গিয়ে প্রমাণ করুন। রক্ষাকবচ চেয়ে বা কান্নাকাটি করে লাভ নেই”।
রবিবার বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় সাড়ে ৮ ঘণ্টা জেরা, সোমবার প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডি-র ১১ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরা, আর আজ মঙ্গলবার এই ডিজে উস্কানি মামলা— সব মিলিয়ে দুর্নীতির পাহাড় এবং উগ্র রাজনীতির ফাঁসে ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন সম্পূর্ণ কোণঠাসা। তদন্তকারীরা আজ তাঁর এই উস্কানিমূলক মন্তব্যের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন।
