প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর এবার আইনি লড়াইয়ের মঞ্চেও বড়সড় ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন শাসক দলের হেভিওয়েট নেতা তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধাননগর সাইবার থানায় দায়ের হওয়া হাইপ্রোফাইল ‘ডিজে মন্তব্য’ মামলায় সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মামলার শুনানির সময় তাঁর সুদূর আমেরিকায় গিয়ে চোখের চিকিৎসা করানোর আবেদনকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রাখলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই চোখের জটিল সমস্যার কারণে দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও তাঁর আইনজীবী আদালতের কাছে মক্কেলের চিকিৎসার স্বার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমতি চান। কিন্তু সেই আবেদনকে প্রাথমিক স্তরে কার্যত নাকচ করে দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতে বিচারপতি স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ রেখে বলেন, “২০ বছর ধরে আপনি বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করাতেই পারেন, কিন্তু এখন পরিস্থিতি আলাদা। রাজ্যে কোনও শারীরিক সমস্যার সমাধান নেই, এমনটা নয়।”
তৃণমূল নেতাকে রাজ্যের চিকিৎসা পরিকাঠামোর ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দিয়ে আদালত জানায়, প্রয়োজনে তিনি কলকাতার নামী সরকারি হাসপাতাল SSKM-এ কথা বলতে পারেন। যদি দরকার হয়, তবে আদালত নিজেই একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেবে, যারা অভিষেকের সমস্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে। তবে বিদেশ যাত্রার এই বিষয়টি এখনই পুরোপুরি খারিজ হয়নি, আগামী দিনে এই নিয়ে পৃথকভাবে শুনানি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ডিজে মামলার তদন্তে আদালতের কড়া নির্দেশের পর গত ১৫ জুলাই বিধাননগর আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনা (Voice Sample) দিয়ে এসেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তে এই সহযোগিতার বিষয়টি এদিন আদালতে ইতিবাচক ভূমিকা নেয়। ফলে, পুলিশ যাতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না করতে পারে, সেই অন্তর্বর্তী আইনি রক্ষাকবচের মেয়াদ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ, রাজ্য পুলিশ তথা তদন্তকারী সংস্থাকে এই মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া আর ঝুলিয়ে না রেখে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে শেষ করতে হবে। আদালতের এই জোড়া নির্দেশে একদিকে যেমন রক্ষাকবচ পেয়ে সাময়িক স্বস্তিতে কালীঘাট শিবির, অন্যদিকে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর খোদ হাইকোর্টের বুকেই রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থার পক্ষে এমন জোরালো সওয়াল ও বিদেশ যাত্রায় বাধা পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন।
