Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোট মিটতেই আড়ালে অভিষেক? ২ মাসের মাথায় হঠাৎ এমন কী করলেন তৃণমূল সেনাপতি?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে প্রায় ২ মাস ধরে রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর দেখা মিলছিল না বললেই চলে। একের পর এক রাজনৈতিক পারদ চড়লেও এক প্রকার আড়ালেই ছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে হঠাৎই বুধবার বড়সড় চমক দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত গোপনে এবং বড় চাল চেলে তিনি এমন এক পদক্ষেপ নিলেন, যা নিয়ে এই মুহূর্তে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। নিচুতলার কর্মীদের জন্য তিনি ফিরিয়ে আনলেন এক পুরনো অস্ত্র, তবে সম্পূর্ণ নতুন উদ্দেশ্যে।

দীর্ঘ প্রায় ৬০ দিন পর আচমকা ময়দানে নামলেন অভিষেক। কর্মীদের জন্য চালু হলো বিশেষ হেল্টলাইন নম্বর, ৭৮৮৭৭৭৮৮৭৭। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এই লাইন।

বুধবার সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত ঝড় তুলে দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে যে সমস্ত দলীয় কর্মী নানাবিধ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছিলেন, তাঁদের জন্য এক বিশেষ আইনি রক্ষাকবচ নিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি। অভিষেকের ঘোষণা অনুযায়ী, পুনরায় সক্রিয় করা হচ্ছে ‘এক ডাকে অভিষেক’ কর্মসূচি। তবে এবারের লক্ষ্য সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা নয়, বরং দলের বিপন্ন নিচুতলার কর্মীদের আইনি ও নৈতিক সুরক্ষা দেওয়া।

এই কর্মসূচির নেপথ্যে যে গভীর রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে, তা অভিষেকের বার্তা থেকেই স্পষ্ট। বিরোধী শিবিরকে বেনজির আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যে আইনের শাসনকে কালিমালিপ্ত করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টা চলছে। তৃণমূল কর্মীদের নোটিশ ছাড়াই তুলে নিয়ে যাওয়া, পাথর ছুড়ে মারা এবং রাতারাতি সাজানো মিথ্যা মামলায় ফেঁসে জেলে বন্দি করার মতো মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, এই বিপদের দিনে দল কর্মীদের পাশে থাকবে এবং সম্পূর্ণ আইনি সহায়তা দেবে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোট মেটার পর গত ২ মাসে দলের অন্দরে কর্মীদের মধ্যে যে একাগ্রতার অভাব বা ক্ষোভ দানা বাঁধছিল, এই একটি চালে তা ধুয়ে মুছে সাফ করতে চাইলেন অভিষেক। ২০২২ সালে এই ‘এক ডাকে অভিষেক’ শুরু হয়েছিল সাধারণ মানুষের মন পেতে, আর ২০২৬-এ এসে সেই একই হাতিয়ার ব্যবহৃত হচ্ছে দলের বিপন্ন সৈনিকদের বুক চিতিয়ে আগলাতে। এই পদক্ষেপ নিচুতলার কর্মীদের মনোবল কতটা চাঙ্গা করবে এবং রাজ্য রাজনীতিকে কোন দিকে মোড় ঘোরাবে, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version