Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বাংলায় ক্ষমতা খতম, এবার ভিন রাজ্যেও বড় ধাক্কা! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি পরোয়ানার ওপর থেকে উঠল স্থগিতাদেশ!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার আইনি ফ্রন্টেও বড়সড় অস্বস্তির মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষমতার দম্ভে ভিন রাজ্যে গিয়ে বিজেপি নেতাদের কুৎসা করার মাশুল এবার আইনি লড়াইয়ে দিতে হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপোকে। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট অভিষেকের গ্রেফতারি পরোয়ানার ওপর থাকা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ সম্পূর্ণ তুলে নিয়েছে এবং তাঁর দায়ের করা আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে। জবলপুর হাইকোর্টের এই কড়া নির্দেশের পর তৃণমূল সাংসদের আইনি সংকট এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল।

২০২০ সালের নভেম্বর মাসে এক রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখার সময় প্রবীণ বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়ের ছেলে আকাশ বিজয়বর্গীয়কে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে ভোপালের বিশেষ এমপি/এমএলএ আদালতে ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের করেন আকাশ বিজয়বর্গীয়। সেখানে বারবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাজিরা না দেওয়ায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Arrest Warrant) জারি করেছিল।গ্রেফতারির হাত থেকে বাঁচতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ বা আইনি সুরক্ষাকবচ জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) জবলপুর হাইকোর্টে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানির সময় নাটকীয় মোড় ঘোরে। শুনানির নির্ধারিত সময়ে এবং পরবর্তীতে আদালতের দেওয়া অতিরিক্ত সুযোগের পরেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হননি। আবেদনকারীর আইনজীবীদের এই ধারাবাহিক অনুপস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি প্রমোদ কুমার আগরওয়ালের সিঙ্গল বেঞ্চ। আদালত সাফ জানায়, আবেদনকারী সম্ভবত এই মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যেতে আর আগ্রহী নন। এর পরেই আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে পূর্ববর্তী স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়।

একদিকে যেখানে রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়ে তৃণমূল আজ ব্যাকফুটে, অন্যদিকে নিয়োগ দুর্নীতি ও কয়লা কেলেঙ্কারির মতো একাধিক কোটি কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির তদন্তের মুখোমুখি হতে হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই নির্দেশ তাঁর আইনি অস্বস্তিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। হাইকোর্টের এই নির্দেশ অবিলম্বে ভোপালের নিম্ন আদালতে পাঠানো হচ্ছে, যার ফলে ভোপাল পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হলো।

Exit mobile version