প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চোরাস্রোত বইছিল। দলীয় কোন্দল আর ভাঙনের মাঝেই এবার সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে এক নজিরবিহীন বিস্ফোরক বোমা ফাটালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলত্যাগী এবং দলের ভেতরে থেকে তাঁর নেতৃত্বের দিকে আঙুল তোলা বিদ্রোহীদের উদ্দেশে সরাসরি ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। সাফ জানিয়ে দিলেন, প্রয়োজন হলে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে তিনি নিজের সমস্ত দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিতে প্রস্তুত!
বিগত কয়েক দিন ধরে তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক ও সাংসদ দল ছেড়েছেন এবং দলের এই শোচনীয় অবস্থার জন্য সরাসরি অভিষেকের ‘একনায়কতন্ত্র’ ও সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন। গতকাল এই প্রসঙ্গে মুখ খুলে অভিষেক বলেন, “যারা দল ছেড়ে গিয়ে এখন আমার নামে দোষারোপ করছেন, তাঁরা যদি সত্যিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আস্থা রেখে দলে ফিরে আসেন, তবে আমি মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে নিজের সব পদ ছেড়ে দেব।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি দলের রাশ পুরোপুরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে সঁপে দিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিতে চাইছেন অভিষেক? নাকি এটি বিদ্রোহীদের কোণঠাসা করার এক সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল?
শুধু দলীয় বিদ্রোহই নয়, ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় তাঁর আঞ্চলিক কার্যালয় যেভাবে জেলা প্রশাসন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে, তা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিষেক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, “আজ যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে এই অফিস ভেঙেছে, মনে রাখবেন, আগামী দিনে তাদেরও ঠিক একইভাবে আইনি ধারার মুখোমুখি হতে হবে।”
দলবদলুদের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “ভোটের ফল প্রকাশের আগে নয়, হেরে যাওয়ার পরেই কেন সবাই পালাচ্ছেন?” তাঁর দাবি, বর্তমান রাজ্যের পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে বাঁচতেই এই সমস্ত নেতারা পর্দার আড়ালে বিজেপির দেওয়া ‘স্ক্রিপ্ট’ অনুযায়ী কাজ করছেন। আর সেই কারণেই এজেন্সি থেকে বাঁচতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে বিষোদগার করাটাই তাঁদের কাছে একমাত্র সহজ রাস্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২১শে জুলাইয়ের শহীদ দিবসের ঠিক আগের দিন অভিষেকের এই মারমুখী ও বিস্ফোরক বয়ান বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
